সহিংসতার ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন বৈরুতের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০২:১৯

বৈরুতে বৃহস্পতিবারের (১৪ অক্টোবর) রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনায় নিজ দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি। ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় আননাহার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে নাজিব মিকাতি বলেন, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে যে, বৈরুতের নিরাপত্তার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এদিকে সহিংসতার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক সিরীয় নাগরিকসহ ৯ জনকে আটক করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে শুক্রবার জাতীয়ভাবে শোক দিবস পালনেরও ঘোষণা দিয়েছেন লেবানিজ প্রধানমন্ত্রী। দেশে শান্তি বজায় রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন লেবাননকে সহিংসতার দিকে টেনে নেওয়ার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) হিজবুল্লাহর হাজার হাজার সমর্থক কালো পোশাক পরে বৈরুত জাস্টিস প্যালেসের সামনে জড়ো হয়। লেবাননের রাজনৈতিক দল আমাল মুভমেন্টের সদস্যরাও এতে অংশ নেয়। এক পর্যায়ে বিক্ষোভ লক্ষ্য করে চারদিক থেকে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ছয় জন। আহত হন কমপক্ষে আরো ৬০ জন।

Beirut bloodshed deepens doubts over port blast probe - Bangladesh Post

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে ছুটে আসে সেনাসদস্যরা। তাদেরকে ট্যাংক নিয়ে রাস্তায় টহল দিতে দেখা গেছে। এ সময় হিজবুল্লাহ ও আমাল মুভমেন্টের সশস্ত্র সদস্যরাও প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা চালায়। রাজধানীতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শহর জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে শান্তি বজায় রাখতে সবার সহায়তা চেয়েছে সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাত বলেন, ‘শহরের শান্তি ফেরাতে সেনাবাহিনী মাঠে থেকে মনিটরিং করছে। হামলাকারীদের আটকের পাশাপাশি বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

এদিকে সহিংসতার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক সিরীয় নাগরিকসহ ৯ জনকে আটক করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এক টুইট বার্তায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থকে জানানো হয়েছে, ‘সহিংসতার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সেজন্য সেনা মোতায়েন রয়েছে’। গত বছরের বৈরুতের বন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত থেকে এক বিচারক অপসারণের দাবিতেই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সমাবেশে হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলি চালায় অজ্ঞাত হামলাকারীরা। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হন। কিছুক্ষণের মধ্যে অভিযানে নামে সেনাবাহিনী। রাস্তায় ট্যাংক ও ভারী অস্ত্র নিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে তাদের। আলজাজিরা ও বিবিসি।

ইত্তেফাক/এএইচপি