সিংগাইরে বহিষ্কৃত এক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে একটি সংখ্যালঘু বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার জামশা ইউনিয়নের দক্ষিণ জামশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় বাড়ির গৃহকর্তা রতন বিশ্বাসের স্ত্রী শুকলা বিশ্বাস (৪০) গতকাল সোমবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এতে আসামি করা হয়েছে জামশা ইউনিয়ন যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি সাদ্দাম হোসেন মোল্যা (৩০) গংদের বিরুদ্ধে।
এর আগে ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে সাদ্দামকে তার সহযোগী শাহিনের ঘর থেকে ম্যাগজিন ও একটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার করে জেলা ডিবি পুলিশ। যে কারণে ঐ সময় দল তাকে সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।
শুকলা বিশ্বাস এজাহারে উল্লেখ করেন, সাদ্দামের নেতৃত্বে ৩৫-৪০ জন নারী ও পুরুষ পরিকল্পিতভাবে রবিবার সকালে তাদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে বসতঘরে ঢুকে মারধর করে। আলমারি ভেঙে ১০-১২ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ২৫ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে। এ সময় তাদের হাতে রাম দা, শাবল, বঁটি ও দা ছিল। ওদের ধাওয়া খেয়ে প্রাণ বাঁচানোর জন্য তারা দৌড়ে পাশের বাড়ি সাঈদ আলীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এ সময় তার স্বামী রতন বিশ্বাস, ছেলে সজিব বিশ্বাস (২৫) ও শাশুড়ি উষা রানী (৭০) আহত হন।
হামলাকারীরা তাদের বাড়ির বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলে এবং ঘরের জানালা, দরজা ও পাকা বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে ফেলে। তাদের আশ্রয়দাতা সাঈদ আলী ও তার স্ত্রী বলেন, সাদ্দামসহ বৃষ্টি আক্তার দা দিয়ে রতনের ছেলে সজীবকে ধাওয়া করলে আমার ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে গেট লাগিয়ে দেওয়ার ফলে সজীব প্রাণে বেঁচে যায়। শুকলার স্বামী রতন বিশ্বাস বলেন, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়।
জামশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিঠু বলেন, সাদ্দাম মোল্যা চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে রয়েছে কয়েকটি মামলা। কুমিল্লার রেশ ধরেই পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সাদ্দাম মোল্যার দাদা আফজাল হোসেন মোল্যার দাবি সাদ্দাম উপস্থিত থাকলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত না।
সিংগাইর সার্কেলের এএসপি রেজাউল হক বলেন, এটা মূলত পাশের বাড়ি মৃত নাজার আহমেদের পরিবারের সঙ্গে রাস্তা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে অনেক দরবার হয়েছে। সাদ্দামকে গ্রেফতারের জন্য ওসিকে বলা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আগেই মামলা নেওয়া হয়েছে। থানার ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্যা বলেন, হামলার ঘটনায় কঠিন অ্যাকশান নেওয়া হবে এবং সাদ্দাম মোল্যাকে গ্রেফতার করা হবে।
ইত্তেফাক/এমআর
