মেহেদী হাসান
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হচ্ছে না দীর্ঘ এক যুগ ধরে। এতে সংগঠন দুটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। একই সঙ্গে এ দীর্ঘ সময়ে মহানগরের দুই অংশ কোনো থানা কমিটিও দিতে পারেনি। মহানগরের নেতারা বলছেন, বারবার কেন্দ্রীয় নেতাদের বলেও ফল পাচ্ছেন না তারা।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালের ৩১ মে। এ সম্মেলনে উত্তরের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মোবাশ্বের চৌধুরী। আর ফরিদুর রহমান খান ইরান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তারা দুজনই এখন সিটি করপোরেশন উত্তরের কাউন্সিলর। এখন তারা নিজ এলাকা নিয়েই বেশি ব্যস্ত। স্বেচ্ছাসেবক লীগ দক্ষিণের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন দেবাশিস বিশ্বাস। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন আরিফুর রহমান টিটু। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের বেশ কিছু থানা কমিটি এখনো চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। আবার অনেক থানা কমিটির মেয়াদ ১০ বছরের বেশি। এমনকি মহানগরের দুই শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন বর্তমান নেতৃত্ব। স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের অন্তর্গত থানা রয়েছে ২৩টি। ইতোমধ্যে নতুন করে আরও তিনটি থানা গঠন করা হয়েছে। এগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোনো কমিটি নেই। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ২২টি থানায় কমিটি রয়েছে। কিন্তু নতুন আরও থানা গঠন হয়েছে। নতুনগুলোর কমিটি না থাকার পাশাপাশি পুরনো থানাগুলোর কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। ফলে পদপ্রত্যাশী নেতারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে সহযোগী এ সংগঠনের কার্যক্রম।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের মহানগরের সম্মেলন হওয়ার পর বাদ পড়া নেতারা এবং তাদের অনুসারীরা সংগঠনের কোনো ফোরামে জায়গা পাচ্ছেন না। স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান নেতারা ছাত্রলীগ থেকেই এসেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় এখন তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। কবে নাগাদ সম্মেলন হবে তা কেউ বলতে পারে না। দুই মহানগরের শীর্ষ নেতারা সচিবালয়, মন্ত্রী ও এমপিদের বাড়িতে তদবিরে ব্যস্ত থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনটির কার্যক্রম। তারা অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালের পর থেকে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি উঠলেও অজ্ঞাত কারণে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
