চীনের শীর্ষ নেতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান চায়না নর্থ ইন্ডাস্ট্রিজ গ্রূপের (নরিনকো গ্রুপ) প্রাক্তন চেয়ারপার্সন ওয়াইইন জিয়াকসুকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। খবর রয়টার্স।
৬৫ বছরের জিয়াকসু ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়না (সিপিসি)-র শীর্ষ নেতাও। তবে তিনি ঘুষ নিয়ে আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুদের জন্য অবৈধ মুনাফা লোটার সন্দেহের তালিকাতে ছিলেন।তার গ্রেফতার সম্পর্কিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জিয়াক্সুকে গ্রেতারের জন্য চীন সুপ্রিম পিপলস প্রকিউরেটরেট গ্রহণ করেছিল।’নরিনকো যা কিনা একটি প্রধান সামরিক-শিল্প গ্রুপ অস্ত্র রপ্তানির পাশাপাশি পিপলস লিবারেশন আর্মিকে অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে। এই সংস্থা তেল ও গ্যাসের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। এপ্রিল মাসে সেন্ট্রাল কমিশন ফর ডিসিপ্লিন ইন্সপেকশন (সিসিডিআই) জানিয়েছিল, ওয়াইইন জিয়াকসু আইন ও বিধিমালার ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেসময় তাকে সিপিসি থেকে বহিষ্কার করারা সঙ্গে তার ‘অবৈধ মুনাফা’ বাজেয়াপ্ত করা হয়।
সিসিডিআই জানিয়েছে, জিয়াসকুর বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ‘গলফের প্রতি আসক্ত হওয়া’ এবং ‘যৌনতার জন্য ক্ষমতা ব্যবহার করা’। সিসিডিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের প্রাক্তন এই কমিউনিস্ট নেতার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, ওয়াইইন জিয়াকসু নিজের আদর্শ ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন। নিজের মূল আকাঙ্ক্ষা এবং মিশনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন ও পার্টির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের তদন্তকেও প্রতিহত করেছিলেন।
তদন্তকারীরা প্রমাণ পেয়েছেন যে, জিয়াকসু গলফ খেলা, উপহার, অর্থ গ্রহণ এবং ব্যাঙ্কোয়েট পার্টিতে যোগদানের প্রতি আসক্ত হয়ে পার্টি এবং সরকারী আচরণে আট-দফা মিতব্যয়ীতা কোড লঙ্ঘন করে দলের নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। সিসিডিআই-এর প্রতিবেদেনে বলা হয়েছে, ওয়াইইন জিয়াকসু পার্টিকে নিজের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জিয়াকসু তার আত্মীয়দের ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং আইন লঙ্ঘন করে প্রচুর মুনাফা চেয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি এবং যৌনতা ও অর্থের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন।’
ইত্তেফাক/এফএস
