ফি কমানোর দাবিতে বশেমুরবিপ্রবিতে দ্বিতীয় দিনের আন্দোলন চলছে

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৪:০১

ভর্তি-সেমিস্টারসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফি কমানোর দাবিতে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলন শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এদিকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ রাখার ঘোষণায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে আগামী ১ নভেম্বর গুচ্ছের ‘সি’ ইউনিটভুক্ত বাণিজ্য অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের দাবি মেনে নিয়ে নোটিশ আকারে তা প্রকাশ করতে হবে। তার আগে আমাদের আন্দোলন বন্ধ হবে না এবং যথারীতি অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ থাকবে। আমরা প্রশাসনকে সব বিষয়ে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু প্রশাসন আমাদের দাবি না মানলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে শিক্ষার্থীরা।

ছবি: ইত্তেফাক

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাজু বলেন, আমাদের দাবি অনুযায়ী প্রতি সেমিস্টারের বেতন ১২০০ টাকার বদলে ৬০০ টাকা, কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ২০০ টাকার বদলে ২০ টাকা, ছাত্র কল্যাণ ১৫০ টাকার বদলে ৫০ টাকা, আইডি কার্ড ৪০০ এর বদলে ৫০, চিকিৎসা ফি ২০০ এর বদলে ৫০, পরিবহন ফি ৬০০ এর বদলে ৩০০, রোভার স্কাউটস ও বিএনসিসি ১০০ এর বদলে ৪০, সিলেবাস ১৫০ টাকার বদলে ৫০ টাকা করতে হবে। আর কম্পিউটার ও ইন্টারনেট, স্টুডেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সিলিং, বিভাগ উন্নয়ন, কেন্দ্র ফিসহ সকল অমূলক ফি বাতিল করতে হবে। এছাড়া প্রতি ক্রেডিট ফি ৫০, প্রবেশপত্র ফি ৫ টাকাসহ হলের সিট ভাড়া ৭৫ এবং সংস্থাপন ফি ৭৫ টাকা করতে হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের কারণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে। আগামী ১ নভেম্বর গুচ্ছের ‘সি’ ইউনিটভুক্ত বাণিজ্য অনুষদের ৫৯০ প্রার্থীর ভর্তি পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু আন্দোলনের কারণে ভবনটি এখন তালাবদ্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা ভর্তি পরীক্ষা ব্যাহত করতে চাই না। আশাকরি তার আগে প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নিবে। তবে দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলব এবং মঙ্গলবার বিস্তারিত আলোচনা করব। বিষয়টি রিজেন্ট বোর্ডে উত্থাপন করতে হবে, এজন্য পুরো বিষয়টা সমাধানে হয়তো দুই সপ্তাহের মত সময় লাগতে পারে।’

ইত্তেফাক/এএএম