গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসারণ বেড়েছে ব্রাজিলে

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২১, ১১:১০

ব্রাজিলে ২০২০ সালে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন ৯.৫ শতাংশ বেড়েছে। বন উজাড়ের কারণে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। করোনা মহামারির মধ্যে ব্রাজিলই একমাত্র দেশ দূষণ কমাতে পারেনি। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

পরিবেশবাদী গ্রুপগুলোর জোট ক্লাইমেট অবজারভেটরির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাকালে বিধিনিষেধের কারণে সব কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ায় ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী নির্গমন ৭ শতাংশ কমেছে। কিন্তু ব্রাজিলে বেড়েছে। ব্রাজিল এ সময়ে ২.১৬ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইডের সমতুল্য গ্যাস নিঃসারণ করেছে। ২০০৬ সালের পরে এই পরিমাণ সর্বোচ্চ।

Brazil Greenhouse Gas Emission Spike Blamed on Deforestation - Scientific  American

এতে বলা হয়, ‘ব্রাজিলে বিশেষ করে আমাজানে বন উজাড় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে কৃষি ও খনিজ অনুসন্ধানের জন্য সংরক্ষিত ভূমি উন্মুক্ত করে দেওয়ায় বন উজাড় বৃদ্ধি পেয়েছে।

মহামারির কারণে শিল্প এবং বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি ব্রাজিলের মতো বেশির ভাগ দেশ গত বছর জ্বালানি খাতে দূষণ কমিয়েছে। সেখানে ৪.৬ শতাংশ দূষণ কমেছে যা ২০১১ সালের পর দেখা যায়নি। তবে সেই অর্জন কৃষি খাতের জন্য ২.৫ দূষণ বৃদ্ধি এবং ২৩.৭ শতাংশ ‘ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনের’ কারণে ম্লান হয়েছে। এই জমি ব্যবহারের জন্য গাছকাটা এবং বন পোড়ানো হয়েছে।

কৃষিকাজ এবং গবাদি পশু পালনের মাধ্যমে, জমি পরিষ্কার করার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে কার্বন নির্গত হয়। বিশ্বের বৃহত্তম উত্পাদক এবং সয়া ও গরুর মাংস রপ্তানিকারক দেশটির জন্য এটি একটি বড় সমস্যা।

বোলসোনারোর ক্ষমতাকালে ব্রাজিলের আমাজানে এক বছরে ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার বনভূমি উজাড় হয়েছে। আয়তনের হিসাবে এটি লেবাননের সমান এলাকা। এক বছর আগে এই বন উজাড় এলাকা ছিল ৬ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার।

ইত্তেফাক/টিআর