অছাত্রদের দাপটে সেই গণরুমেই ঠাঁই মিলেছে শিক্ষার্থীদের

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২১, ২১:২০

করোনা মহামারীতে ৫৭০দিন বন্ধ থাকার পর গত ১১ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো। এর আগে, হলগুলোতে গণরুম না রাখার ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার প্রেক্ষিতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু অছাত্রদের দাপটে আবারও সেই গণরুমেই ঠাঁই মিলেছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হল প্রশাসনের দায়িত্বহীনতায় আবারও হলে সিট দখল করেছে অছাত্ররা। এর ফলে ‘গণরুমে’ কিংবা ‘মিনি গণরুমে’ থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়া কয়েকটি হলে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘গেস্টরুম’ কার্যক্রমও চলছে আগের মতোই। এসব নিয়ে কোন বিকার দৃশ্যমান হচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

হলগুলোতে সিট মেইনটেইনেন্সের দায়িত্ব হল প্রশাসনের। তবে হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে ঠিকমতো হলে না আসা ও রুম বণ্টনের দায়িত্ব পালন না করার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের এমন দায়িত্বহীনতার সুযোগে হলের রুম বণ্টনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতারা। 

জানা যায়, হলের যেসব রুমে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে থাকছেন, সেসব রুম ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হল কর্তৃপক্ষের হলেও ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের দখলে রয়েছে। তবে এসব দায়িত্ব ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতারা পালন করতে পারেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ১২৪ থেকে ১৩১ নম্বর, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ১১৫ থেকে ১১৮ নম্বর, মওলানা ভাসানী হলের ১০১, ১০৩, ১০৫, ১০৬, ১১০ ও ১২৩ নম্বর এবং শহীদ রফিক-জব্বার হলের ১০৭, ১১০ ও ১১৪ নম্বর রুমগুলো চার জনের হলেও দ্বিতীয় বর্ষের ১২ থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ছাড়া মীর মশাররফ হোসেন হলের ১০১ থেকে ১০৮ নম্বর, শহীদ সালাম-বরকত হলের ১১১, ১১২ নম্বর, আ ফ ম কামাল উদ্দীন হলের ১৪৩ থেকে ১৫১ নম্বর ও আল-বেরুনী হলের ১০৯,১১০ ও ১১২ এবং ৪০৯ থেকে ৪১৫ নম্বর রুমগুলো দুই জনের হলেও ৮ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে কিছু শিক্ষার্থী হলে অবস্থান না করায় চার জনের রুমে আট থেকে ১০ জন ও দুই জনের রুমে ছয় থেকে আট জন শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে থাকছেন। তবে কয়েকদিনের মধ্যে তাদেরকে ‘মিনি গণরুম’ থেকে অন্য রুমে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে হল সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে মওলানা ভাসানী হলের ‘মিনি গণরুম’ থেকে শিক্ষার্থীদের অন্য রুমে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল, শহীদ সালাম-বরকত হল ও আ ফ ম কামাল উদ্দীন হলে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ডেকে ‘গেস্টরুম’ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাত ১১টা থেকে প্রায় আড়াইটা পর্যন্ত তৃতীয় বর্ষের (৪৭ ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা গেস্টরুম পরিচালনা করছেন বলে জানায় দ্বিতীয় বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থীরা। অন্য হলগুলোতে ‘গেস্টরুম’ বন্ধ থাকলেও সিনিয়ররা রুমে ডেকে শাসন করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। 

দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী ইত্তেফাককে বলেন, গত কয়েকদিন নানা ঠুনকো অভিযোগ তুলে ‘গেস্টরুমে’ ডেকে গালাগালি করা হচ্ছে। এ ছাড়া কাউকে সালাম না দিলে, কর্মসূচিতে না গেলেও সিনিয়ররা ডাক দেওয়ার পর না শুনলে ‘গেস্টরুমে’ ডেকে দূর্ব্যবহার করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মুজিবুর রহমান বলেন, অছাত্রদের হল থেকে বের করতে পারলেই প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের আসন নিশ্চিত করতে পারবো। আর হলগুলোতে ‘গেস্টরুম’ চালানোর বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে যদি ‘গেস্টরুম’ চলে থাকে তাহলে অতিদ্রুত হল প্রাধ্যক্ষদের সাথে কথা বলে বন্ধের ব্যবস্থা করবো।

ইত্তেফাক/ইআ