কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে গত ১ বছরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ২৮৬ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। এ ব্যাপারে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী মামলাও হয়েছে ২২৬টি। কিন্তু কিছুতেই যেন থামছে না মাদক ব্যবসা।
উপজেলার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে পুলিশ, বিজিবি ও অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এ অভিযান চালিয়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত গাঁজা ৩৩৩ কেজি, ফেন্সিডিল ৫৭০ পিস, ইয়াবা ট্যাবলেট ১৭২ পিস, মদ ৫৯ বোতল ও কাশির সিরাপ ১৪১টি উদ্ধার করেছে। মামলা হয়েছে ২২৬টি। গ্রেফতারও হয়েছে ২৮৬ জন মাদক ব্যবসায়ী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়ী থানার এ এস আই আনারুল ইসলাম।
জানা গেছে মাদক ব্যবসার সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদ রয়েছে। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহসটুকু পায় না। তবে এসব প্রভাবশালীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে।
উপজেলার মাদকের নিরাপদ রুট অনন্তপুর, উত্তর অনন্তপুর, কাশিয়াবাড়ী, বেড়াকুটি, ধর্মপুর, বালাবাড়ী, গংগাহাট ব্রিজের মোড়, আব্দুল্লাবাজার, চৌত্তাবাড়ী মোড়, নাখারজান, চাঁদের বাজার, ঠোস বিদ্যাবাগিস, জুম্মাড়পাড়, রসুন শিমুলবাড়ী, নন্দিরকুটি, খলিশাকোঠাল, গজেরকুটি, কুরুষা ফেরুষা, জায়গিরটারী, বালাতাড়ি, কৃষ্ণানন্দ বকসী, গোরকমন্ডপ, চর-গোরকমন্ডপ, গোরকমন্ডপ নামাটারী।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, মাদক ব্যবসায় প্রচুর টাকা উপার্জনের আশায় খুব সহজে মাদক ব্যবসায় বেকার যুবকরা জড়িয়ে পড়ছে।
এ ব্যাপারে কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মন্ডল ও ফুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ-হারুন জানান, ‘সীমান্তে বেকার যুবকের কর্মসংস্থান, পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ও মাদকের ওপর জনসচেতনা বৃদ্ধি করলেই যুব সমাজ মাদকের নেশা ও ব্যবসা থেকে ফিরে আসতে পরে।’
আরও পড়ুনঃ ফরিদপুরে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ
এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী থানার ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানী সবার সহযোগিতা কামনা করে জানান, ‘আমাদের প্রতিদিন মাদকবিরোধী অভিযান চলছে ও চলবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পুলিশকে সহযোগিতা ও পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী যদি মাদকসহ অবৈধ পণ্য সামগ্রী প্রবেশের ব্যাপারে তৎপর হয় তাহলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদক শূন্যের কোঠায় আসবে।’
ইত্তেফাক/নূহু

