এত কাছে, তবুও কত দূরে!

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২১, ১৯:০৯

তিন বছর আগের কথা। কলম্বোয় নিদাহাস কাপে বাংলাদেশ ৪ বলে ১১ রানের সমীকরণ পাড়ি দিয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বীরত্বে। গতকাল শারজায় ৬ বলে ১৩ রান কিংবা শেষ বলে ৪ রানের রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে নিদাহাস কাপের স্মৃতি মাহমুদউল্লাহর মনে পড়েছিল কি না, বলা কঠিন। মরুর বুকে তেমন নায়কোচিত কিছু করতে পারলেন না গতকাল। আন্দ্রে রাসেলের ফুলার বলটাতে ব্যাট ছোঁয়াতে না পারার পরই রণক্লান্ত অধিনায়ক ডাউন দ্যা উইকেট এসে থেমে গেছেন।

কয়েক সেকেন্ড আগেও শারজার সন্ধ্যার আকাশে ফ্লাড লাইটের কৃত্রিম আলোয় জ্বলজ্বল করা বাংলাদেশের জয়ের প্রদীপ যেন দুম করে নিভে গেল। জয়ের এত কাছে এসেও জয় অধরা থাকল টাইগারদের। ম্যাচের শেষ বলে নিশ্চিত হয়েছে হার। মাহমুদউল্লাহর প্রাণপণ চেষ্টাতেও মিলল না জয়ের স্বস্তি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। সুপার-১২ পর্বে টানা তিন ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়ের ঘণ্টা কার্যত বেজেই গেল। শেষ দুই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে মাহমুদউল্লাহর দল। টসে হেরে বাংলাদেশের বোলারদের তোপ সামলে আগে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে ১৪২ রান তুলেছিল। জবাবে ৫ উইকেটে ১৩৯ রানের বেশি যেতে পারেনি বাংলাদেশ। নিকোলাস পুরান ২২ বলে ৪০ রান করে ম্যাচ সেরা হন।

টার্গেট ছিল ১৪৩ রান। শারজার কিছুটা স্লো উইকেটে এই রানটা অনাতিক্রম্য ছিল না। কিন্তু ব্যাটিংয়ে দুই সিনিয়র সাকিব ও মুশফিক ব্যর্থ হয়েছেন আবারও। ওপেনিংয়ে নেমে ১২ বলে ৯ রান করেছেন সাকিব। মিডল অর্ডারে দলকে ডুবানোর কাজটা পরিপূর্ণভাবে করেছেন মুশফিক। বরাবরের মতোই প্রথাগত নয় এমন শট (স্কুপ) খেলতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। ৭ বলে ৮ রান করেন তিনি। তখন বলা চলে ম্যাচটা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আসতে যাচ্ছিল। কিন্তু মুশফিক দলকে ঠেলে দেন খাদের কিনারে।

দলীয় ৯০ রানে ৪ উইকেট পতনের পর লিটন-মাহমুদউল্লাহ লড়াই করে গেছেন। পঞ্চম উইকেটে তারা ৪০ রানের জুটি গড়েন। রান-বলের দূরত্ব পাড়ি দিতে জোর চেষ্টা করেছেন তারা। কিন্তু সেটি পুরোপুরি নাগালে আনা সম্ভব হয়নি কখনোই। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান না কমানোর সমীকরণেই পরাজয় মানতে হয়েছে টাইগারদের।

ইনিংসের ১৯ম ওভারের শেষ বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৪৪ রান করে আউট হন লিটন। শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহর দুর্বার প্রচেষ্টাও জয় এনে দিতে পারেনি। ২৪ বলে অপরাজিত ৩১ রান করলেও অতৃপ্তি নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন তিনি। নাঈম ও সৌম্য দুই জনের ব্যাট থেকেই আসে ১৭ রান। উইন্ডিজ বোলারদের মধ্যে রামপাল, হোল্ডার, রাসেল, আকিল হোসেন ও ব্র্যাভো প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট পান।

এর আগে বোলিংয়ে উইন্ডিজদের চেপে ধরার শুরুটা হয়েছিল মেহেদী হাসানকে দিয়ে। প্রথম স্পেলে ৩ ওভারে ১১ রানে ২ উইকেট নেন এ অফস্পিনার। তার সঙ্গে তাসকিন, মুস্তাফিজও যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের ফলটাও মিলেছে। ৬২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে ক্যারিবিয়ানরা। তবে ইনিংস জুড়ে তিনটি ক্যাচ মিস, লিটনের একবার স্ট্যাম্পিং মিস না হলে হয়তো উইন্ডিজদের রানটা এত ভদ্রস্থ হতো না। বোলিংয়ে নায়ক হলেও মেহেদী দুটি এবং আফিফ ১টি ক্যাচ ফেলেছেন।

শুরুর ১০ ওভারে ৩ উইকেটে ৪৮ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরের ১০ ওভারে ৪ উইকেট হারালেও তারা ৯৪ রান তোলে। তৃতীয় ওভারে মুস্তাফিজকে মারতে গিয়ে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন এভিন লুইস (৪)। পঞ্চম ওভারে মেহেদী হাসান বোল্ড করেন গেইলকে (৪)। গগনবিদারী উল্লাসে মেতে উঠে শারজার গ্যালারি। নিজের তৃতীয় ওভারে হেটমায়ারকেও (৯) ফেরান মেহেদী।

তাসকিন ফলো থ্রুতে রানআউট করেন আন্দ্রে রাসেলকে। পঞ্চম উইকেটে নিকোলাস পুরান-রোস্টন চেজের ৫৭ রানের জুটিই লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয় তাদের। অথচ সাকিবের করা ১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মেহেদী ক্যাচ না ফেললে ২৭ রানে ফিরে যেতেন রোস্টন চেজ। ২ বল পরই ১ রানে থাকা পুরানকে স্ট্যাম্পিং করতে ব্যর্থ হন লিটন। ইনিংসের ১৯তম ওভারে প্রথম ও দ্বিতীয় বলে জোড়া শিকারে এই জুটি ভাঙেন শরীফুল। ২২ বলে ৪০ রান করে পুরান ক্যাচ দেন নাঈমের হাতে। ৩৯ রান করে বোল্ড হন রোস্টন চেজ। পঞ্চম বলে হোল্ডারের সহজ ক্যাচ ফেলেন আফিফ। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে ব্র্যাভোকে ফেরান মুস্তাফিজ। পরের ৫ বলে তিন ছক্কায় ১৯ রান দেন তিনি। পোলার্ড অপরাজিত ১৪, হোল্ডার অপরাজিত ১৫ রান করেন। বাংলাদেশের মেহেদী, শরীফুল, মুস্তাফিজ ২টি করে উইকেট পান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর ঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ২০ ওভারে ১৪২/৭, বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৩৯/৫

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩ রানে জয়ী

ইত্তেফাক/এনএজেডএন