ছোটবেলা থেকেই জেসমিন আক্তারের স্বপ্ন ছিল উদ্যোক্তা হওয়ার। কিছু একটা করে সবাইকে চমক লাগিয়ে দেবেন। কিন্তু কি করবেন, ভেবে পাচ্ছিলেন না। এর মধ্যে বিয়ে হয় ওসমান গণি নামে এক স্কুল শিক্ষকের সঙ্গে। দুই মেয়ে, স্বামী ও সংসার জীবনের ব্যস্ততায় কেটে যায় ২৫ বছর।
এর মধ্যেই ভাবতে শুরু করেন উদ্যোক্তা হওয়ার। কলেজ পড়ুয়া বড় মেয়ে ফারজানার সঙ্গে দেখতে থাকেন ইউটিউব চ্যানেলে বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের ভিডিও। ইউটিউব দেখেই ঠিক করেন কেঁচো সার উৎপাদনের উদ্যোক্তা হবেন তিনি। স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে শুরু করেন কেঁচো খামার। ঝিনাইদহ থেকে ৪ কেজি কেঁচো সংগ্রহ করে ৮ থেকে ১০টি মাটির চাড়িতে গোবর মিশ্রিত করে ছেড়ে দেন কেঁচোগুলো।
জেসমিনের কথা জানতে পেরে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা আসেন তার বাড়িতে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় ৮ স্ল্যাব বিশিষ্ট আরও একটি কেঁচো খামার করে দেন তারা। মাত্র এক বছরের মাথায় সফল উদ্যোক্তা হিসেবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন জেসমিন। স্থানীয় কৃষকরা কেঁচো বা ভার্মি কম্পোস্ট সার কিনতে আসেন তার বাড়িতে। ছোট খামার থেকেই তিনি এখন প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করছেন।
কেঁচো খামারি জেসমিনের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার বলরামপুর গ্রামে। জেসমিনের দেখে ওই গ্রামের আফরোজা, সালমা, আরিফাসহ আরও চার নারী শুরু করেছেন কেঁচো খামার। তারা সবাই জেসমিনের পরামর্শ নিয়ে কেঁচো খামারে কাজ করছেন। জেসমিনের মতো নতুন ওই চার নারী উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
কেঁচো খামারি জেসমিন আক্তার জানান, আমার খামার থেকে কৃষকরা ভার্মি কম্পোস্ট সার কিনছেন ২০ টাকা কেজি দরে। খামার ছোট হওয়ায় কৃষকদের চাহিদা পূরণ করতে পারছি না।
জেসমিনের কম্পোস্ট সারে সুফল পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। তারা জানান, বাজারের রাসায়নিক সারের চেয়ে এই সারের দাম একদিকে যেমন কম, অন্যদিকে বেশি সুফল পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহারে অনেক রোগ বালাই কমে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সেলিম রেজা বলেন, দেশের অনেক জায়গাতেই বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো বা ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে সিংড়াতে জেসমিন আক্তারই প্রথম উদ্যোক্তা। কেউ উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।

পরিবেশ অধিদফতরের ডিজির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল