শিক্ষা অধিদপ্তরের কাজে উদাসীনতার ছাপ

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২১, ১০:২৭

ডিগ্রি পর্যায়ের তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে প্রকাশ করা তালিকায় ভুল ও নানা অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। তালিকায় একজনের নাম একাধিকবার রয়েছে। আবার যোগ্য প্রার্থীর নামও বাদ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদেরও তালিকা। আবার সরকারি কলেজের শিক্ষকদের নামও যুক্ত হয়েছে এই তালিকায়। ৯টি শর্ত দিয়ে প্রকাশ করা ত্রুটিযুক্ত এই তালিকা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষকরা বলছেন, তালিকা প্রকাশের আগে যাচাই করা যেত। কিন্তু মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ ক্ষেত্রে উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত ৭ নভেম্বর ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়া ৭৭০ জন শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেছে মাউশি। এই তালিকা ধরেই শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার কথা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, বেসরকারি কলেজের ডিগ্রি স্তরটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী, ডিগ্রি স্তরে প্রতিটি ঐচ্ছিক বিষয়ে অনুমোদন পেতে হলে তিন জন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হয়। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী দুজন শিক্ষকের পদ রয়েছে। ফলে তৃতীয় শিক্ষক এমপিওভুক্ত হন না। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি ডিগ্রি স্তরের ১৫৩ তৃতীয় শিক্ষককে (২০১০ সালের ২৮ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়া)  এমপিওভুক্ত করা হয়। তবে ঐ সময়ের পর বিভিন্ন ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ পাওয়া প্রায় সাড়ে আট শ’ তৃতীয় শিক্ষক এখনো এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। এর মধ্যে গত ৭ নভেম্বর ৭৭০ জনের তালিকা প্রকাশ করে মাউশি। যাতে নানা ভুল ও অসঙ্গতি রয়েছে।

যেসব অসঙ্গতি: তালিকার ৬ থেকে ৯ নম্বরে সিরাজগঞ্জের চালিতাডাঙ্গা মহিলা ডিগ্রি কলেজের চার জন শিক্ষকের নাম রয়েছে। একই শিক্ষকের নাম ৫৫২ ও ৫৫৫ নম্বর সিরিয়ালে দেওয়া আছে। আবার ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া কলেজের সাত জন শিক্ষকের নাম ৬৫ থেকে ৭১ নম্বর পর্যন্ত সিরিয়ালে রয়েছে। এই শিক্ষকদের নাম পুনরায় ৭২ থেকে ৭৮ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে। মিরপুর কলেজের সাত জন শিক্ষকের নাম ২১৭ থেকে ২২৩ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে। একই শিক্ষকের নাম আবারও ২২৪ থেকে ২৩০ নম্বরে উল্লেখ করা হয়েছে। জামিরতা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকদের নামও দুই স্থানে রয়েছে। এভাবে নানা অসঙ্গতির তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

এছাড়া সরকারি কলেজের শিক্ষকদের নামও যুক্ত করা হয়েছে এ তালিকায়। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ সরকারি হওয়া সত্ত্বেও এই কলেজের দুই জন শিক্ষক এই তালিকায় রয়েছেন। রংপুরের পীরগঞ্জের শাহ আব্দুর রউফ কলেজের শিক্ষকদের নামও রয়েছে এই তালিকায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাউশির সংশ্লিষ্ট শাখার উপ-পরিচালক এনামুল হক হওলাদার বলেন, কিছু অসঙ্গতির খবর পেয়েছি। তবে এ জন্য কলেজের অধ্যক্ষরা দায়ী। তালিকায় নাম থাকলেও অবৈধ নিয়োগ পেলে তিনি এমপিওভুক্তি হবেন না। আর ভুল তথ্য দিয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

অন্যদিকে শিক্ষকদের একটি গ্রুপ শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অংকের টাকা তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, তালিকায় নাম যুক্ত করার জন্য মাউশি ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে সম্মানী দেওয়ার নামে এই অর্থ সাধারণ শিক্ষকদের কাছ থেকে তোলা হয়েছে। যারা টাকা দেননি তাদের এই তালিকা থেকে কৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও করেছেন কোনো কোনো শিক্ষক। 

আমিনুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক জানান, বিধি মোতাবেক নিয়োগ পেয়েছি এবং যোগ্য শিক্ষক হিসেবে আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নাম মাউশিতে পাঠানো হয়েছে। এর প্রমাণও রয়েছে। যে মেইল থেকে এই তালিকা মাউশিকে পাঠানো হয়েছে তার প্রমাণও হয়েছে। মাউশির উদাসীনতায় এমনটি হয়েছে। সারা দেশের যোগ্য শতাধিক শিক্ষক এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, অধ্যক্ষদের পাঠানো তালিকা থেকেই এই তালিকা করা হয়েছে। যেসব ভুল ও অসঙ্গতি রয়েছে তা ঠিক করা হয়েছে। যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়েছে। এগুলো ঠিক করা হবে।

ইত্তেফাক/এমআর