কৃষিজমি ভরাট করে গড়ে উঠছে বসতবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৬:৫২

কমলগঞ্জে অবাধে রাস্তার ধারের কৃষিজমি ভরাট করা হচ্ছে। আর সেসব জমি ভরাট করে বসতঘর, রাস্তাঘাট, দালানকোটা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। ফসলের পরিবর্তে শোভা পাচ্ছে পাকা ঘরবাড়ি। অব্যাহতভাবে এ অবস্থা চলতে থাকলে ফসল উত্পাদন কমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও যে জমিতে আউশ, আমনসহ রবি মৌসুমে বিভিন্ন জাতের চাষাবাদ হতো, সে জমিতে ক্রমান্বয়ে বাসাবাড়ি, আবাসিক, বাণিজ্যিক আর বহুতল ভবন গড়ে উঠছে। কৃষি বিভাগের মতে প্রতি বছর দেশে এক শতাংশ হারে কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে। এর সঙ্গে নাগরিক জীবনের নানা অনুষঙ্গে ও মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডে চিরচেনা প্রাকৃতিক পরিবেশ হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষি উত্পাদন ও মাছের আবাসস্থল বিলীন হচ্ছে। কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন কার্যকরের অভাবে আবাদি কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। মৌলভীবাজারে আবাদি কৃষিজমির মধ্যে দোফসলি এমনকি তিন ফসলি জমিও রয়েছে। জেলা কৃষি অফিসের একটি সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর দশমিক ২৫ শতাংশ বা ৪৫ হেক্টর পরিমাণ কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে। অর্থাত্ বছরে ৪৫ হেক্টর কৃষিজমি চলে যাচ্ছে অকৃষি খাতে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা গোপাল দেব বলেন, মৌলভীবাজারের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবাসীদের আয়ের একটি বড় অংশ বাসাবাড়ি, দালান, অট্টালিকা নির্মাণে ব্যয় করা হচ্ছে। এদের ৭৫ ভাগই রাস্তার ধারের আবাদি কৃষিজমি।

কমলগঞ্জ উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য মতে, ১৯৯৬ সালে এই উপজেলায় আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ৪৭ দশমিক ৬৮১ একর। ২০০৮ সালে আবাদি জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৪০৪ একর। ফলে গত এক যুগে ৭ দশমিক ২৭৭ একর আবাদি কৃষি জমি হারিয়ে গেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে যে হারে আবাদি জমি ভরাট করে বাসাবাড়ি ও স্থাপনা তৈরি হচ্ছে তাতে ২০০৮ পরবর্তী ১০ বছরে বর্তমান সময় পর্যন্ত এর প্রায় দ্বিগুণ জমি ভরাট হয়েছে।

উপজেলার শমসেরনগর-ভানুগাছ সড়কে কৃষিজমিতে গড়ে উঠছে বসতবাড়ি। ছবি: ইত্তেফাক

সমাজকর্মী তোয়াবুর রহমান, কৃষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এক দশক আগেও কৃষিজমির পরিমাণ যা ছিল আবাসিক চাহিদা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা নদী ভাঙনে মারাত্মক হারে কমেছে কৃষিজমির পরিমাণ। বন্যা, খরা, ঝড়, নদীভাঙ্গন, বাঁধভাঙন, অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খাদ্য ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাদের মতে, কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই কৃষিজমিতে গৃহ নির্মাণে নীতিমালার অভাবে ইচ্ছেমতো ঘড়বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন। ফলে খাদ্য ঘাটতিসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জুয়েল আহমদ বলেন, মানুষ কৃষিজমি ভরাট করে বাড়িঘর করলেও কেউ এসে কোন ধরনের অনুমতি নিতে চায় না বা প্রয়োজন মনে করে না।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দীন আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বাসাবাড়ি নির্মাণ করার কথা। সচেতনতার অভাব ও নীতিমালা কার্যকর না থাকায় কিছু সংখ্যক মানুষ প্রয়োজনে আবাদি জমি ভরাট করে দালানকোটা গড়ে তুলছে। তবে এসব বিষয়ে সরকারি উদ্যোগে জনসচেতনতা কার্যক্রম চলছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ