নাগরিক জীবনে ব্যস্ততা এবং মানসিক চাপ কাটিয়ে এখন ভালো থাকাটাই খুব দায়। তার ওপর কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট চোখ রাঙাচ্ছে নতুন করে। সব কিছু মিলে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু বেঁচে থাকতে হলে নিজেকে ভালো রাখা খুব জরুরি।
অনেক সময় মনে হতে পারে মানসিক ভাবে কেউ দুর্বল হয়ে পড়ছেন, সব কিছু হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং এ নিয়ে অবসাদে ভুগতে শুরু করেন। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুব খারাপ।
চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী আপনার উদ্বেগ, মন খারাপ, অতিরিক্ত ভাবনা —সব কিছুর জন্যই দায়ী দেহের কিছু হরমোন। সেগুলো ঠিক থাকলে মানসিক অশান্তি থেকে রেহাই পেতে কিছুটা হলেও সুবিধা হয়।
স্ট্রেস হরমোন, সেক্স হরমোন এবং থাইরয়েড হরমোন—এই তিনটির প্রভাব মানবদেহে সবচেয়ে বেশি। তাই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য এই তিন হরমোনকে আয়ত্বে রাখতে হবে।
স্ট্রেস হরমোন
যখনই আমাদের মানসিক চাপ থাকে তখনই শারীরিক বেশ কিছু হরমোন, যেমন অ্যাড্রেনালিন এবং কর্টিসল এগুলো বেশি মাত্রায় ক্ষরণ হয় এবং সেই থেকে মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। দিনের পর দিন একই পরিস্থিতি বজায় থাকলে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরেও স্ট্রেস থেকে যায়। তাই নিজেকে অল্প হলেও হাসিখুশি রাখুন, সুস্থ থাকুন, আনন্দে রাখুন। অতিরিক্ত চিন্তার বাঁধনে আবদ্ধ রাখবেন না।
সেক্স হরমোন
এস্ট্রোজেন এবং টেস্টোস্টেরন হরমোনের প্রভাবে কিন্তু মারাত্বক পরিমাণে উদ্বেগ বাড়তে পারে। সে কারণে ঋতুচক্রের সময় হোক কিংবা মেনোপজের পর এমনকি শিশু জন্মের পরেও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। নির্দিষ্ট এই সময়গুলোতে শান্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। এবং অবশ্যই সুষম ও পুষ্টিকর খাওয়াদাওয়া করতে হবে। মনের ইচ্ছে অনুযায়ী সব কিছু করার চেষ্টা করবেন।
থাইরয়েড হরমোন
এই হরমোনের সমস্যাটা আজকাল ছোট থেকে বড় অনেকেরই হতে দেখা যাচ্ছে। বুক ধড়ফড় করা, হার্ট বিট বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অত্যধিক ভাবনা-চিন্তা এবং হাত-পা কাঁপা এবং সে সঙ্গে সব সময় মানসিক অশান্তি যেনো পেছনে লেগেই আছে।
এই তিন হরমোন আয়ত্বে রাখলেই কিন্তু শারীরিক অনেক সমস্যার সমাধান পেতে পারেন। প্রতি দুই থেকে তিন মাস অন্তর স্ট্রেস হরমোন এবং থাইরয়েড চেক করতে হবে। তার সঙ্গে ভালো থাকতে হবে নিজের মতো করে। মনের বিপরীতে বা ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো কাজ করা চলবে না। প্রয়োজনে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
