এন্ডোমেট্রিওসিস- নারীর যন্ত্রণাদায়ক ব্যাধি

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৭:০১

নারী তার নিজের শরীরকে অনুধাবন যেমন করেনা চিনতেও পারেনা। সম্ভবত উপমহাদেশের নারীদের ক্ষেত্রে এই রায়কে নিয়ে অনেকেরই ক্ষোভ থাকতে পারে। কিন্তু নিজের শরীরকে চেনা মানে নিজের শরীরের সমস্যাটুকুকেও অনুধাবন করা। নারীকে তার জীবনে নানাবিধ রোগের সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু অধিকাংশ সময় কিছু কিছু রোগকে পরিচিত রোগের সাথে গুলিয়ে ফেলে সকলে।

এন্ডোমেট্রিওসিস তেমনি এক ব্যাধি। এন্ডমেট্রিওসিস মুলত কি? নামটা ভীষণ বিদঘুটে লাগতে পারে কিন্তু সমস্যাটি এত বিদঘুটে নয়। 

নারীর জরায়ু এবং গর্ভের মধ্যবর্তী অংশে একটা টিস্যুকে বলা হয় এন্ডোমেট্রিয়াম। এই এন্ডোমেট্রিয়ামের সংক্রমণ থেকেই এন্ডোমেট্রিওসিসের উৎপত্তি। এই রোগের লক্ষণ মুলত তলপেট কিংবা শ্রোণীপথের ব্যথা। এমনকি এসময় ঋতুস্রাবও হয়ে থাকে। মুল সমস্যা এখানেই। অনেকে এই ব্যথাকে ঋতুস্রাবের সময়কালীন ব্যথা ভেবে ভুল করে। তবে এন্ডোমেট্রিওসিসের ফলে অসংখ্য সমস্যা হতে পারে। 

নারীর জরায়ু এবং গর্ভের মধ্যবর্তী অংশে একটা টিস্যুকে বলা হয় এন্ডোমেট্রিয়াম। এই এন্ডোমেট্রিয়ামের সংক্রমণ থেকেই এন্ডোমেট্রিওসিসের উৎপত্তি

সচরাচর মিলনের সময় প্রচণ্ড ব্যথা এমনকি অনেকের গর্ভবতী হওয়ার পথেও এই রোগ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ধারণা করা হয় অন্তত ১০ শতাংশ যুবতী মেয়েদের এই রোগে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এন্ডোমেট্রিওসিসকে শনাক্ত করার জন্যেও ল্যাপারোস্কোপির সাহায্য নিতে হয়। বাংলাদেশে স্বভাবতই এমন একটি পরীক্ষা করার মতো স্থানের বেশ অভাব আছে। 

তারমানে কি এই ব্যাধি হলে কোন সমাধান নেই? না, এমন ভাবার কোন কারণ নেই। মুলত এই ব্যাধির কারণগুলো বুঝতে পারলে এতটা সমস্যা হয়না। আজকে মুলত সেই সচেতনতার কথাই বলতে চাচ্ছি। তাহলে কেন হয় এই রোগ? আসুন দেখে নেই। 

এমনটা কেন হয় এখনো বিশেষজ্ঞরা বলতে পারেন না। তবে কিছু কিছু গবেষণায় কিছু ধারণা পাওয়া গেছে। মুলত নারীর জড়ায়ুতে রক্তের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে ফ্যালোপিয়ান নালিকার মাধ্যমে। ঋতুস্রাবের সময় তলপেটের দিকে সেই নালির ফলেই সম্ভবত এই রোগ হয়। জড়ায়ুর ঝিল্লিতে ক্ষয়ের ফলে অনেক সময় ক্যান্সারেরও দেখা মিলে। যেহেতু এর কোন কারণ আমরা এখনো ভালোভাবে জানিনা তাই এমন ব্যথা হলেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ এই সমস্যাটুকু বেশ গুরুতর। দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হলে ক্যান্সার নিরাময় করা সহজতর হয়ে ওঠে। 

সচরাচর সিজারিয়ান অপারেশনের সময় এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই সম্ভাবনাটুকুও নেহাৎ ফেলনা নয়। কিন্তু যেহেতু আমাদের দেশে অনেকেই এই ব্যথাটুকুকে স্বাভাবিক বা অপারেশনের পরবর্তী ব্যথা ভেবে নেয়, তাই অধিকাংশ সময় এই রোগ গুরুতর হয়ে ওঠে। 

এখন প্রশ্ন হলো এন্ডোমেট্রিওসিস হলে ব্যথা হয় কেন? যখন এই ব্যাধিতে আক্রান্ত নারী রজস্বলা হয়ে ওঠে তখন তার তলপেটের কোষ এবং টিস্যু থেকে রক্তক্ষরণ হয়। মুলত জড়ায়ুর বাইরের টিস্যু এবং কোষ উভয় থেকেই রক্তক্ষরণ হয় বিধায় তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। তলপেটে অবস্থানরত অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে সেই রক্তক্ষরণের ফলে চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে পেলভিক অঞ্চলে প্রদাহজনিত সমস্যা হয়। 

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে অন্তত ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বন্ধ্যা নারী এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত। মুলত এন্ডোমেট্রিওসিসের ফলে ফ্যালোপিয়ান নালিকার বিকৃতি ঘটে। এই নালিকার বিকৃতির ফলে শুক্রাণুর প্রবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। তাছাড়া প্রদাহজনিত সমস্যা অধিকাংশ সময় ফ্যালোপিয়ান নালিকা কিংবা জড়ায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে। 

এন্ডোমেট্রিওসিসের ব্যথা ঋতুস্রাবের সময় প্রবল হয়ে ওঠে। তাই সচরাচর ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। যেমনটা আগেই বলেছি। নারীরা সচরাচর নিজের শরীরের সমস্যাগুলোকে সক্রিয়ভাবে চিহ্নিত করতে পারেনা। চেপে রাখার ফলে গুরুতর সমস্যা বৃদ্ধি পায়। তাই সময় থাকতেই সন্দেহবাতিক হয়ে ওঠা উচিত। নাহলে হয়ে যেতে পারে গুরুতর কোন সমস্যা। আর যেহেতু নারীই এখন ঘরে বাহিরের নিয়ন্তা - তাই তাকে হতে হবে শরীরের প্রতি আরো সচেতন। 

 

ইত্তেফাক/এআই