র্যাবের সাবেক ও বর্তমান মহাপরিচালকসহ বাংলাদেশের সাতজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। স্থানীয় সময় ১৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে পররাষ্ট্র দফতর ও হোয়াইট হাউজের সামনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এ আহ্বান জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি আহ্বান করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে দুপুরে প্রথমে সমাবেশের আয়োজন করা হয় যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতরের সামনে। পরে পেনসিলভেনিয়া অ্যাভিনিউতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দাপ্তরিক কার্যালয় হোয়াইট হাউজের সামনে সমাবেশ করেন নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু দেশটির মানুষ বাংলাদেশিদের পাশে থেকে সমর্থন জুগিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ৫০ বছর পর কোনো প্রমাণ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র সরকার পুনরায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, যে সাতজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, বাংলাদেশে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সেসব কর্মকর্তার ভূমিকা প্রশংসনীয়। একটি দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল বলেই উন্নয়নশীল দেশ থেকে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত হয়েছে।
ড. সিদ্দিকুর রহমান অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। যারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, এ নিষেধাজ্ঞা তাদেরই চক্রান্তের ফসল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদের পরিচালনায় সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে। নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে জয় বাংলা স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে সমাবেশস্থল।
সমাবেশে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এখানে তৃতীয় কোনো শক্তি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। যে বাহিনী নারী পাচার রোধ, মাদক চোরাচালানরোধসহ জঙ্গিবাদ নির্মূলে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে তাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন এমন সিদ্ধান্ত। অনতিবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, ব্রুকলিন আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম নজরুল, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা হিন্দাল কাদির বাপ্পা, মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ সভাপতি সাদেক এম খান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী বাকী, সিনিয়র সহ-সভাপতি শিব্বীর আহেমদ, সহ-সভাপতি জিআই রাসেল, নুরুল আমিন, আযম আযাদ, যুগ্ম সম্পাদক হারুনুর রশীদ, কামাল হোসেন, দস্তগীর জাহাঙ্গীর, মেট্রো ওয়াশিংটন যুবলীগ সভাপতি রবিউল ইসলাম রাজু, জেবা রাসেল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাখাওয়াত বিশ্বাস, গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লিটন, যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতা সুবল দেবনাথ, এবাদুল হক আবাদ, নাফিকুর রহমান তুরান, সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, শামীম আলামিন, সাইফুল আলম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দফতরের ‘ফরেন অ্যাসেটস কনট্রোল অফিস’ (ওএফএসি) বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নিপীড়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে নিষেধাজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাবেন না। তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য অযোগ্য বলেও বিবেচিত হবেন। আর র্যাবও প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাছ থেকে যেসব সহযোগিতা পাচ্ছিলো সেগুলো বাতিল হতে পারে। একইসঙ্গে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বর্তমান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদ ও র্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ আরও চারজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিদেশে সম্পদ থাকলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
