নোবিপ্রবিতে নানা আয়োজনে বিজয় দিবস উদযাপন

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৫১

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

করোনার সময়কালের দীর্ঘ বন্ধে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার অভিযানে নামেন এডভেঞ্চার ক্লাবের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ক্যাম্পাসের প্রশান্তি পার্ক থেকে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। পরে সেখান থেকে সেন্ট্রাল ফিল্ড সংলগ্ন রোডে এ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি  পরিষ্কার করা হয় লাইব্রেরি ভবনের চারদিক। এর সঙ্গে ছিলো নীলদিঘি সংলগ্ন রোড। 

বিজয়ের ঐতিহাসিক দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এডভেঞ্চার ক্লাবের পরিবেশ পরিচ্ছন্নতাকরণ অভিযান আয়োজনের লক্ষ্য ছিলো ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ধরে রাখা এবং প্রত্যেকের মাঝে ক্যাম্পাসকে পাশাপাশি দেশকে সুন্দর রাখার সচেতনতা তৈরি করা।

নোবিপ্রবি এডভেঞ্চার ক্লাবের সভাপতি সাদমান সাকিব বলেন, করোনাকালীন সংকট পাশ কাটিয়ে আবারো ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়েছে নোবিপ্রবি এডভেঞ্চার ক্লাব৷ বিজয় দিবসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক সচেতনতার বার্তা দিতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার করা হয়েছে।

shiitbostrobitoron

বিজয় দিবসের সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সংগঠন 'চলো পাল্টাই ফাউন্ডেশন' পাঁচ শতাধিক অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। সকালে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. দিদার উল আলম। এসময় উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ আব্দুল বাকী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন, চলো পাল্টাই ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ, সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা এসকে ফয়সাল আহমেদ, সভাপতি জামান মিয়া সহ সংগঠনের সদস্যরা।

প্রথম ধাপে ৫০টি অসহায় পরিবারকে শীতবস্ত্র ও ২৫ জন শিশুকে শীতের সোয়েটার প্রদান করে সংগঠনটি। পরে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মেঘনা নদীর ভাঙ্গনে অসহায় হয়ে যাওয়া ২০০টি পরিবারের মাঝে  শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়। রাতে নোয়াখালীর সোনাপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত রেল স্টেশনে  ৩০০ জন অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল প্রদান করা হয়।

nb1

এদিকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে উপলক্ষে করে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাইক্লিস্টদের সংগঠন 'নোবিপ্রবি সাইক্লিস্ট ক্লাব'। বৃহস্পতিবার দুপুরে  'বিজয় রাইড' ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে এই ক্লাবটির যাত্রা শুরু হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর, ক্লাবটির উপদেষ্টা ও অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাইমিনুল ইসলাম, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রভাষক আব্দুস সালামসহ ৩০ জন সাইক্লিস্ট উপস্থিত ছিলেন। 

ক্লাবের প্রধান সমন্বয়ক ফখরুল ইসলাম সুজন বলেন, 'পরিবহনের অন্যতম পরিবেশবান্ধব মাধ্যম হচ্ছে সাইকেল। একই সাথে এটি সাশ্রয়ী একটি বাহন। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সাইক্লিংয়ের বিকল্প নেই।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণারের উদ্বোধন

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংলগ্ন  শান্তিনিকেতনে দিনব্যাপী এক চিত্রপ্রদর্শনী আয়োজন করা হয়, যেখানে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরতে 'খবরের পাতায় বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ' শিরোনামে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি সম্বলিত ৫০টি খবর পাতার চিত্র প্রদর্শন করা হয়। দিনব্যাপী চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য  অধ্যাপক ড. দিদার উল আলম। নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি এই প্রদর্শনী আয়োজন করে।

অন্যদিকে বিজয় দিবসের রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণারের উদ্বোধন করা হয়েছে।

হলের পাঠাগার কক্ষে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণারের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. দিদারুল আলম। এর আগে হলের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

বঙ্গমাতা  হলের প্রভোস্ট শাহীন কাদীর ভুইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য ড. দিদার-উল-আলম। এ সময় অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল বাকী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদূর, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডীন ড. মো. সেলিম হোসেন, ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সের পরিচালক ড. ফিরোজ আহমেদ, ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলের প্রভোস্ট ড. আনিসুজ্জামানসহ হলের সহকারী প্রভোস্টবৃন্দ, আবাসিক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এসটিএম