রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

১৮ মাস বেতন পাচ্ছেন না ৭৮৬ কারিগরি শিক্ষক

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:২০

রাজস্ব খাতে স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ১৮ মাস বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না দেশের ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৭৮৬ জন কারিগরি শিক্ষক। এসব শিক্ষকদের নিয়োগবিধির সব কোটা অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ কারিগরি শাখার সভাপতি সুমন হায়দার।

সংগঠনের কারিগরি শাখার সভাপতি সুমন হায়দার বলেন, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহের মানোন্নয়ন ও শিক্ষক সল্পতা দূরীকরণের জন্য জুলাই ২০১০ তারিখে সরকার স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (স্টেপ) শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করেন, যা ধারাবাহিকভাবে ৩০ জুন ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত চলমান ছিল। উক্ত প্রকল্পের আওতায় সরকার দেশের ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে নিয়োগবিধির সব কোটা অনুসরণ করে দুই ধাপে ১ হাজার ১৫ জন শিক্ষককে নিয়োগ প্রদান করেন (বর্তমানে কর্মরত ৭৭৭ জন)। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সরকারের থোক বরাদ্দ খাত থেকে ৭৮৬ জন শিক্ষকের বেতন ভাতাদি পরিশোধ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পের ৭৮৬ জন শিক্ষকের চাকরি প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন/নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে সম্পাদন করা হয়নি। করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে আমরা গত ১৮ মাস বেতন ভাতাদি না পেয়ে অত্যন্ত মানবেতর ও উদ্বিগ্ন অবস্থায় দিন অতিবাহিত করছি। এমতাবস্থায়, ৭৮৬ জন শিক্ষক ও তাদের পরিবার-পরিজন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করার ও বেতন ভাতাদি প্রাপ্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিনীত অনুরোধ করছি।

সংগঠনটির কারিগরি শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওমর ফারুক বলেন, ‘বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি আমরা। আজ ১৮ মাস হয়ে গেল বেতন ছাড়া। টাকার অভাবে ক্যানসারের চিকিত্সা করতে না পারায় দুই জন সহকর্মী মারা গেছেন। একজন সহকর্মী রোড অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছেন। তার পরিবার আজ অনাহারে, অর্ধাহারে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার দ্রুত বাস্তবায়ন চাই। আমাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও দ্রুত রাজস্ব খাতে চাকরি স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন কারিগরি শিক্ষকরা। এ সময় তারা তাদের দুঃখ, দুর্দশার কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

এ সময় বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে মোস্তফা কামাল, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর ছাওরা পারভীন ও আমিনুল ইসলাম, বীর বিক্রম শাহ আলী আকন্দর ছেলে ও সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর মেহেদি হাসান দানিয়াল, শরীয়তপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর রেজাউল করিমসহ দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। 

ইত্তেফাক/ইউবি 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

জাবিতে চলছে উইকেন্ড কোর্স, অনুমোদনের বিষয়ে জানেন না ভিসি

বদলির বাধা কাটলো প্রাথমিক শিক্ষকদের 

ছুটি শেষ হলেও ফেরেননি শেকৃবির শিক্ষকরা

৩৫১ সরকারি হাই স্কুলের মধ্যে ২৪৪টিতে প্রধান শিক্ষক নেই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে ‘কাঁচা বাদাম’ গানের নাচ, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বিনা বেতনে চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন শিক্ষকরা

শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সমর্থনে প্রতীকী অনশন করবে শিক্ষক নেটওয়ার্ক

কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যু: অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি ঢাবি শিক্ষক সমিতির