ফিজিশিয়ান স্যাম্পলে সয়লাব যশোরের ফার্মেসি

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৪৯

বিক্রি নিষিদ্ধ ফিজিশিয়ান স্যাম্পলে যশোরের বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। চিকিত্সকদের প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে দেশের অধিকাংশ ওষুধ কোম্পানি এসব স্যাম্পল উদারচিত্তে বিলিয়ে যাচ্ছে। চিকিত্সকরাও মহা উত্সাহে সেসব গ্রহণের পর খোলা বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। অসাধু এই কারবারের সুযোগ নিয়ে ফার্মেসিগুলোও মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ‘ক্যাচ কভারে’ ভরে ক্রেতাদের ঠকিয়ে আসছে। ঔষধ প্রশাসন গত এক বছরে ফার্মেসিতে ফিজিশিয়ান মেডিসিন পাওয়ায় ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এরপরও বন্ধ হচ্ছে না ফিজিশিয়ান মেডিসিন ক্রয়-বিক্রয়।

সূত্র মতে, প্রতি মাসে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকার ফিজিশিয়ান স্যাম্পল যশোরের বাজারে বিকিকিনি হচ্ছে। যশোরের বঙ্গবাজারের অন্তত তিনটি দোকানে ঝুড়ি ভরে এসব ফিজিশিয়ান স্যাম্পল প্রকাশ্যে বিক্রি করা হলেও প্রশাসনের নজরদারির বাইরে রয়ে গেছে তা।

সূত্র জানায়, যে কোনো নতুন ওষুধের প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পশুপাখির দেহে করা হয়। এতে ফলাফল ভালো হলে মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করা হয়। এর ফিডব্যাক দেবেন রোগী। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল মানবদেহে সহনীয় হলে রেফারেন্সভুক্ত হয় এবং তা বাণিজ্যিক উত্পাদনে যায়।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ওমিপ্রাজল, পেনটো প্রাজল, ইসোমা প্রাজল, এন্টাসিড, পেনিসিলিন, এজিথ্রোমাইসিনসহ আরো অনেক ওষুধ দীর্ঘ জনগোষ্ঠীর ওপর প্রয়োগ করা হয়ছে। সেগুলোর ফিজিশিয়ান স্যাম্পল দেওয়ার কোনো দরকার নেই।

মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ অ্যাসোসিয়েশন জেলা শাখার আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান ইত্তেফাককে জানান, হাতেগোনা কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি ছাড়া শতাধিক কোম্পানি ফিজিশিয়ান স্যাম্পল সরবরাহ করে। আমাদের অ্যাসোসিয়েশনে পাঁচ শতাধিক তালিকাভুক্ত সদস্যসহ প্রায় ১ হাজার মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ যশোরে রয়েছেন। তারা ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ পর্যন্ত ক্যাচ কভার (ওষুধের প্যাকেট) পেয়ে থাকেন। প্রতিটি প্যাকেটে কোম্পানি ভেদে দু্্ই থেকে চারটি করে ওষুধ থাকে। এসব ওষুধ ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমিশনে চিকিত্সকরা ফার্মেসিতে দিয়ে দেন।

এর পরিমাণ ৯৯ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো রোগীকে কোনো চিকিত্সক ফিজিশিয়ান স্যাম্পল দিয়েছেন, এটা তার নজরে আসেনি। অতি সামান্য কিছু ওষুধ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন।

সূত্র জানায়, দেশের ২০টি বড় কোম্পানি প্রত্যেক মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার, ৫০টির মতো কোম্পানি ১০ থেকে ১৫ হাজার এবং ছোট ৩০টি কোম্পানি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার প্রমোশনাল মেডিসিন চিকিত্সকদের দিয়ে থাকে।

মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ অ্যাসোসিয়েশন জেলা শাখার আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান বলেন, যে কোনো প্রোডাক্টের সামগ্রিক তথ্য কোম্পনির লিটারেচার জার্নালে থাকে। এজন্য ফিজিশিয়ান স্যাম্পল হিসেবে ওষুধ দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা দেখি না। প্রোমোশনাল মেটেরিয়াল হিসেবে চিকিত্সকদের কলম, প্যাড দেওয়া যেতে পারে।

মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ অ্যাসোসিয়েশন নেতা অভিযোগ করে বলেন, ফিজিশিয়ান স্যাম্পলে কোনো মেয়াদের তারিখ উল্লেখ করা হয় না। উল্লেখ থাকে ক্যাচ কভারে। এজন্য অসাধু ফার্মেসি মালিকরা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের স্টিপের অবিক্রীত দুই বা ততোধিক ওষুধ ক্যাচ কভারে ভরে বিক্রি করে থাকেন। এতে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হন।

বিএমএ যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. এম এ বাশার বলেন, এটা ডাক্তারদের একধরনের সম্মানিত করা। আর ওষুধের কার্যকারিতা কেমন, এটা দেখাও উদ্দেশ্য। আমি যেসব ফিজিশিয়ান স্যাম্পল পাই তা গরিব রোগীদের চিকিত্সা সহায়তা দিয়ে থাকে, এমন প্রতিষ্ঠানে দিয়ে দেই। তবে অনেক চিকিত্সকই তা ফার্মেসিতে বিক্রি করেন, এটা ঠিক।

ইত্তেফাক/বিএএফ