বোর্ড পরীক্ষার খাতা বিভিন্ন কারণে অবমূল্যায়ন হয়ে থাকে। যেমন: অদক্ষ পরীক্ষক, যথাযথ নিরীক্ষণ না করা, পরীক্ষক নিজে খাতা মূল্যায়ন না করা, স্বল্প সময়ে অধিক খাতা মূল্যায়ন, উত্তরপত্র ভালোভাবে না পড়ে অনুমানের ভিত্তিতে নম্বর দেওয়া, খাতা মূল্যায়নে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরদারির অভাব, খাতা অবমূল্যায়নে শাস্তির বিধান বা জবাবদিহিতা না থাকা, পরীক্ষকদের সঠিক মূল্যায়ন না করা ইত্যাদি।
একজন শিক্ষার্থী নার্সারি-প্লে ক্লাস থেকে শুরু করে ১২ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে এসএসসি পরীক্ষা দেয়, তার ১২ বছরের প্রতি মিনিটের সুফল নির্ভর করে পরীক্ষার ফলাফলের ওপর। কিন্তু পরীক্ষার খাতা অবমূল্যায়ন হলে ঐ শিক্ষার্থীর যে ক্ষতি হয় সেটা কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। কাজেই যেনোতেনোভাবে খাতা মূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই। খাতা মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষকের কমপক্ষে ১০ বছর ঐ বিষয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকা বাঞ্ছনীয়। খাতা মূল্যায়নে অবশ্যই জবাবদিহিতা থাকতে হবে। কোনো রকম খামখেয়ালি প্রমাণিত হলে কঠিন শাস্তির ব্যবস্হা থাকা জরুরি।
একজন পরীক্ষককে ৩০০ খাতা দেখার জন্য মাত্র ১৫ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়, যা একেবারেই কাম্য নয়। একটি খাতা মূল্যায়নের জন্য কমপক্ষে ৩০ মিনিট হিসাবে ৩০০ খাতা দেখার জন্য কমপক্ষে ১৫০ ঘণ্টা দরকার। অনেক সময় তাড়াহুড়ার কারণে সঠিক মূল্যায়ন হয় না। অনেক পরীক্ষক সময়ের স্বল্পতায় উত্তরপত্র ঠিকভাবে না পড়ে অনুমানের ওপর কলম দিয়ে দাগ দিয়ে পাতা উলটিয়ে যান এবং মনগড়া নম্বর দেন। এতে করে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে। অবশ্যই প্রত্যেকটি লাইন পড়ে খাতা মূল্যায়ন করা উচিত।
খাতা মূল্যায়নের জন্য বোর্ড থেকে বণ্টনের পর পরীক্ষকদের তদারকি না থাকায় তাঁরা দায়বদ্ধতা হারান। অবশ্যই তদারকি থাকতে হবে। পরীক্ষার মূল খাতার সঙ্গে অতিরিক্ত লুজ শিট সুতা দিয়ে সেলাই না করে অনেকক্ষেত্রে পিন মারা হয়। এতে করে পিনের মাথা অল্প আটকানোর কারণে অনেক খাতার চাপে লুজ শিট খুলে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই কোনোভাবেই সেলাই ছাড়া পিন মারা সমীচীন হবে না। শিক্ষার্থীর খাতা সহজ শর্তে পুনঃমূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু নাম্বার যোগ দিয়ে নয়, প্রথম মূল্যায়িত নম্বর লিখে রেখে খাতায় দেওয়া প্রত্যেকটি নম্বর কেটে দিয়ে ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার দায়িত্বে মূল্যায়ন করতে হবে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর পূনঃমূল্যায়নেও অভিযোগ থাকলে প্রয়োজনে দ্বিগুণ ফি জমা নিয়ে তার উপস্হিতিতে বুঝিয়ে দেওয়া উচিত।
বর্তমানে পরীক্ষককে একটি খাতা মূল্যায়নের জন্য মাত্র ২৫ টাকা দেওয়া হয়, এটা একেবারেই অপ্রতুল। অবশ্যই প্রতিটি খাতা মূল্যায়নের জন্য পারিশ্রমিক যুক্তিসংগতভাবে বাড়িয়ে অভিজ্ঞ পরীক্ষকদের মূল্যায়ন করা জরুরি। বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণের পর উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য একজন শিক্ষার্থী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৭/১৮ ঘণ্টা পড়েও সিলেবাস শেষ করতে পারছে না। এরপরেও পরীক্ষকের অবহেলা, অনিয়মে উত্তরপত্র যদি অবমূল্যায়ন হয় তাহলে ঐ শিক্ষার্থীর ও অভিভাবকের সান্তনা পাওয়ার আর কিছুই থাকে না। আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তাল মিলিয়ে চলতে হবে। পরীক্ষার খাতা ঠিকভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর পরিশ্রম সার্থক ও উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকা দরকার।
