ধ্বনিত হোক ইত্তেফাকের জয়গান

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৪৫

ভোরের সূর্য পুরো পৃথিবীকে আলোকিত করার আগেই বাংলাদেশের কোটি মানুষের দোরগোড়ায় দেশের যে শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাটি পৌঁছে যায়, তার নাম ‘দৈনিক ইত্তেফাক’। শীতের সকালে চায়ের কাপের সেই চুমুকের সঙ্গে এক খণ্ড ‘দৈনিক ইত্তেফাক’, যে কোনো পারিবারিক আড্ডাকে জমিয়ে ফেলতে পারে মুহূর্তেই। 

হাঁটি হাঁটি পায়ে দৈনিক ইত্তেফাক পেরিয়ে গেছে সাফল্যের ৬৮ বছর। আজ তার সফল ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জানান দিচ্ছে দীর্ঘ এই যাত্রায় নিজের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার ইতিহাস। এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যেন দৈনিক ইত্তেফাকের দীর্ঘ পথচলার এক আলোকবর্তিতার সামিল। 

যে আলোয় আরো একবার নতুন করে রঙিন হবে দেশ, পথ দেখাবে আরো বহুদূর এগিয়ে চলার এবং কোটি পাঠকের কাছে এভাবেই সবার আগে পৌঁছে যাবে দৈনিক ইত্তেফাকের সত্যনিষ্ঠ খবর। সঠিক খবর প্রকাশের এই অবিচলতা দৈনিক ইত্তেফাকের জনপ্রিয়তাকে তুঙ্গে এনে দাঁড় করিয়েছে। আশা রাখি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে এগিয়ে চলবে ইত্তেফাকের অগ্রযাত্রা। যার ধারাবাহিকতায় আজ দৈনিক ইত্তেফাক তার ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে আলোর দ্যুতি ছড়াচ্ছে।

বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বর্তমান প্রজন্ম অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর। মোবাইল, ল্যাপটপে চোখ আটকে থাকা প্রজন্মটা জানেনা ভোরের নতুন সেই খবরের কাগজের পাতা উলটানোর আনন্দ। কিংবা কোন পরীক্ষা অথবা চাকরির ফল জানতে খবরের কাগজের সেই পুরোনো নির্ভরযোগ্যতা। পারিবারিক আড্ডায় বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে পত্রিকায় প্রকাশিত বিশেষ কোনো খবর পড়ে শোনার সেই আকুলতা আজকাল আর পাওয়া যায় না। হাতে হাতে ইলেকট্রিক ডিভাইসগুলো যেন ক্রমশই বন্দি করে ফেলেছে অনুভূতিগুলোকে। তবুও এত পরিবর্তনের ভিড়েও হারিয়ে যায়নি পাঠক হৃদয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের গ্রহণযোগ্যতা। 

দৈনিক ইত্তেফাক। ছবি: আর্কাইভ

৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসেও অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে পত্রিকাটি ধরে রেখেছে পাঠক গ্রহণযোগ্যতা। নিঃসংশয়ে এটি সম্ভব হয়েছে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত খবরের গুণগত মান, সত্যনিষ্ঠ খবর প্রকাশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য। ইত্তেফাকের অনেক পুরোনো পাঠকের চোখে আজ বয়সের ভারে উঠেছে চশমা। তবুও আবেদন কমাতে পারেনি এক চুলও। আজো অনেক পাঠকের সকালে চায়ের নাস্তার একটা অংশ হিসেবে বরাদ্দ থাকে রোজকার দৈনিক ইত্তেফাক। চশমার কাচটা ভালো করে পরিষ্কার করে হাতে তুলে নেন দৈনিক ইত্তেফাক। নিজের হাতে গড়া দেশের খবর জানতে আজও তাদের প্রথম ভরসা ‘দৈনিক ইত্তেফাক’। দেশমাতৃকার খবরাখবর, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা কিংবা দেশের সোনার সন্তানদের কোনো সুকীর্তির খবরকে সঙ্গে করে দিন শুরু করেন ইত্তেফাকের পাঠকরা।

এমন অনেকেই আছেন, যারা দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে পাশে ছিলেন। আজ মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেছে। দেশের প্রতিটি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে পত্রিকাটির জনপ্রিয়তা। পাঠক গ্রহণযোগ্যতাও বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসে সাধুবাদ জানাই দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিটি কলাকুশলী, যাদের প্রচেষ্টার ফসল আজকের এই ‘দৈনিক ইত্তেফাক’। 

চায়ের কাপের আড্ডাগুলো আবার না হয় জমে উঠুক দৈনিক ইত্তেফাকের সঙ্গে। পাঠকহৃদয়ে এভাবেই জায়গা করে নিতে থাকুক ‘দৈনিক ইত্তেফাক’। আজ তারণ্যের যে দৃপ্ত দৃষ্টি, হাতে তুলে নেয় ‘দৈনিক ইত্তেফাক’, সময়ের বহমানতায় বয়সের ভারে চোখের আলো কমে এলেও, চশমার কাচে পৃথিবী দেখা চোখ দুটো দিয়ে সেদিনও পরম ভরসায় হাতে তুলে নিবে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’, পাঠক রোমম্হন করবে ফেলে আসা সোনালি অতীত। জানবে দেশ-বিদেশের সত্যনিষ্ঠ খবর। ভরসা আর বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গাটা এভাবেই অপরিবর্তনীয় থাকুক। পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকুক দৈনিক ইত্তেফাক। প্রত্যাশা রাখি এভাবেই ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ সাক্ষী হয়ে থাকবে কালান্তরের। প্রতিটি পাতায় তুলে ধরবে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা। আবারো চমকপ্রদ হবে পাঠক, মুগ্ধতা ছড়াবে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইংরেজি সাহিত্য বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন