রংপুরের বদরগঞ্জে ইউপি নির্বাচনের দুই দিন পর ভোট কেন্দ্রের বাইরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার দামোদরপুর ইউপির মোস্তফাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। এ ঘটনায় ব্যালট পেপার উদ্ধারকারী আয়শা বেগম (৩৭) ও তার ছেলে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিয়াজুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান।
জানাযায়, ভোট গ্রহণের দুইদিন পর ওই ইউনিয়নের মোস্তফাপুর ভোট কেন্দ্রের বাইরে ছাগলকে ঘাস খাওয়ানোর সময় এক কিশোর চারটি ব্যালট পেপার কুড়িয়ে পায়। এ ঘটনায় ভোটে কারচুপি করে পরাজিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আজিজুল হক সরকারের হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক বিক্ষোভ করে তার বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। তাদের দাবি, ভোট কারচুপির মাধ্যমে নৌকার প্রার্থীকে কৌশলে পরাজিত করা হয়েছে।
এ সময় আজিজুল হকের ভাতিজা লিটন সরকার বলেন, ওই ভোট কেন্দ্রে নৌকা মার্কার প্রতীকে সিল দেওয়া বিপুল পরিমাণ ব্যালট পেপার পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ কারণে নৌকার প্রার্থী মাত্র ৪৩ ভোটে হেরে যায়। যার প্রমাণ মেলে ভোটের দুইদিন পর কেন্দ্রের বাইরে পাওয়া ব্যালট পেপার। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ভোট পুনরায় গণনা করার দাবি করছি। এর মধ্যে চারটি ব্যালট পেপার উদ্ধার করে পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
কুঁড়িয়ে পাওয়া ব্যালট পেপার উদ্ধারকারী ও পুলিশের হাতে আটক শিক্ষার্থী রিয়াজুল হক বলেন, আজ (মঙ্গলবার) আমি বাড়ির পাশে ওই ভোট সেন্টারে পাশে বেঁধে রাখা ছাগলকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য যাই। এ সময় চারটি ব্যালট পেপার দেখতে পেয়ে কুঁড়িয়ে বাড়ি নিয়ে আসি। পরে খবর পেয়ে লোকজন আমাকে ও আমার মাকে ধরে চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে আসে। কারা কিভাবে ব্যালট পেপার সেখানে রেখেছে বা ফেলে গেছে তা আমরা জানিনা। এ ব্যাপারে আটক আয়শা বেগমের কাছ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ,চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে বদরগঞ্জ উপজেলার ১০ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও ৭টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়,গত রবিবার বদরগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে দামোদরপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আবু বক্কর সিদ্দিককে (মোটরসাইকেল) বে-সরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ৮হাজার ৯১। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আজিজুল হক সরকার। তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ৮হাজার ৪৮। মাত্র ৪৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন নৌকার প্রার্থী আজিজুল হক সরকার। ভোটে কারচুপি করে পরিকল্পিতভাবে তাকে পরাজিত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নৌকা প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী আজিজুল হক সরকার বলেন,পরিকল্পিতভাবে আমাকে পরাজিত করা হয়েছে। যার প্রমাণ মিলেছে ভোট শেষে বাইরে পাওয়া ব্যালট পেপার। এর আগে ওই কেন্দ্রের বাইরে বহু ব্যালট পেপার পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। আমি পুনরায় ভোট গণনার দাবি করছি। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো বলেও তিনি জানান।
বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, চারটি ব্যালট পেপার উদ্ধার করেছি। অনেকেই বলছে কিছু ব্যালট পেপার পোড়ানো হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার আজিজার রহমান বসুনিয়া বলেন, সুষ্ঠুভাবে ১০টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে। কিভাবে বাইরে ব্যালট পেপার পড়ে ছিল তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কোন ভোটার হয়তো কেন্দ্রের ভেতর থেকে ব্যালট বাক্সে না ফেলে বাইরে নিয়ে গেছে। পরে হয়তো কোন এক সময় ওই ব্যালট পেপার বাইরে ফেলে দিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
