চার্লস ডিকেন্সের সেই বিখ্যাত উক্তিটি নতুন বছরের জন্যে সত্য, 'A new heart for a new year, always!' গত দুই বছরে করোনায় প্রায় স্থবির জনজীবন। এবার যখন অস্বস্তি কাটিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই করোনার নতুন ধরন অমিক্রনের আক্রমণ। তবু মানুষ আশায় বাঁচে। আর সেজন্যেই নতুন বছর নিয়েও অনেকেরই আছে আশা-ভরসা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওমায়ের জুমার বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে শিক্ষাক্ষেত্র ছিল স্থবির। আস্তে আস্তে শিক্ষাঙ্গন আবার প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে। নতুন বছরে সব শিক্ষার্থী আবার গুছিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে বলেই আমার বিশ্বাস। দেশের ভবিষ্যতের কারিগরদের স্তব্ধতা ঠিক মানায় না।’
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে কর্মরত ড. ওয়াসিম জানান, ‘বিগত বছরগুলোতে স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যস্ততা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সামনেও ওমিক্রন একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবেই আসতে চলেছে। এই সময় সকলের সুস্থতা যেমন কামনা করি, তেমনই নতুন বছরে সবাইকে নিরাপদ থাকার পরামর্শ রইলো। নতুন বছরে মেডিক্যাল বিভাগ ওমিক্রনকে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হোক। সেই আশায় সবাইকে হ্যাপি নিউ ইয়ার।’
নৃত্যশিল্পী শারমিন সুর নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাতে বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর শিল্পাঙ্গনের স্তব্ধতা হয়তো ওমিক্রনের জন্যে আবার শিথিল হতে চলেছে। কিন্তু তবু সবাই নতুন বছরে নতুন জীবনের সঙ্গেই সংযোগের মায়াজালটুকু যেন ছিন্ন না হয় কখনো। নতুন বছরে শিল্পাঙ্গন আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠুক।’
এছাড়া ফ্যাশন জগতেও পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। সেই বিষয়েই নাবিলা হক নামক একজন হ্যান্ড পেইন্ট ড্রেস বিক্রেতা জানান, হ্যান্ড পেইন্ট ড্রেসের জনপ্রিয়তা আস্তে আস্তে বাড়ছে। নতুন বছরে নতুন উদ্যমে কাজ চালিয়ে যেতে চাই। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। সামনে ওমিক্রনের জন্যে আবার পরিস্থিতি কেমন হবে জানা নেই। তবে সবাইকে সুস্থ ও নিরাপদে থাকার অনুরোধ থাকলো।
এছাড়া সুবর্ণা রহিম এক সাক্ষাৎকারে জানান, দিনদিন ঘরে বসে থাকার পর আবার স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার মতো ধৈর্য যাদের আছে, তাদের জন্যে নতুন বছর সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। এই নতুন বছরটা অন্তত স্থবির না হোক।
সুস্বাস্থ্য বিষয়েই শারমিন রাখি বলেন, ‘নতুন বছরে নতুন সুযোগের হাতছানি। বিষণ্নতা কিংবা হতাশার মাঝেই জীবন না কাটিয়ে নিজেকে সুস্থ রাখার চেষ্টাতেই ব্যস্ত থাকা উচিত। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।’
