বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

লাশ দাফনের লোক নেই বকশীগঞ্জের ৪ গ্রামে

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:৫৪

জামালপুরের বকশীগঞ্জে ভোট কেন্দ্রে পুলিশের উপর হামলা ও ভোট কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গাড়ী ভাংচুর ও পুলিশের গাড়ী পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায়  ১ হাজার ৬৯২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার ভয়ে মেরুরচর, ফকিরপাড়া, বাঘাডুবা ও ভাটি কলকীহারা গ্রাম শতভাগ পুরুষ শূন্য। মহিলাদের উপস্থিতিও খুবই নগন্য। অভিভাবকদের সাথে শিশুরাও পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

পুলিশের ভয়ে লোকজন গবাদি পশুসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। এছাড়া ৪ গ্রামের ১৫টি মসজিদের আজান বন্ধ রয়েছে। মসজিদে নামাজও বন্ধ। শুক্রবারের জুম্মার নামাজের সময় মসজিদ গুলো ছিল ফাঁকা। গত ২৪ ঘণ্টায় অসুস্থতা জনিত কারণে মেরুরচর গ্রামে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের দাফন কাফনে কেউ শরীক হওয়ার সাহস পাননি। ফলে বকশীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার ও মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগরের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় মৃত ব্যক্তিদের লাশ দাফন করা হয়েছে।

গত ৬ জানুয়ারি বকশীগঞ্জ থানার এসআই আবু শরিফ বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় ওই মামলা দায়ের করেন। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোয়ার হোসেন হক কে হুকুমের আসামী করে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ৭জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বকশীগঞ্জ থানার এসআই মো. আব্দুস সালাম।  

পুলিশের ভয়ে লোকজন গবাদি পশুসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

মামলার বাদী জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানার এসআই আবু শরীফ উল্লেখ করেছেন, ৫ জানুয়ারি বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের মেরুরচর হাসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছিলো। এক পর্যায়ে মেরুরচর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোয়ার হোসেন হকের নেতৃত্বে একদল উশৃংখল লোক কর্তব্যরত পুলিশের উপর হামলা করে। একই সময় হামলাকারীরা চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোয়ার হোসেন হকের নির্দেশে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করার চেষ্টা করে। হামলাকারীরা পুলিশের ওয়াকিটকি ছিনতাই করে নেন। হামলাকারীরা পুলিশের একটি পিক-আপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পর্যায়ক্রমে মোট ১৬০ বুলেট ও ৩২ টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। হামলায় বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত) আব্দুর রহিম, মামলার বাদী এসআই আবু শরীফ, এসআই রাজু আহমেদ, এএসআই মজনু মিয়া, আশরাফুল মৃধা, কনেস্টেবল আতোয়ার রহমান, রঞ্জু শেখ, আব্দুল মজিদ, আব্দুল আলীম, শাহজাহান, শাহিন, সুজন মিয়া, আলাল উদ্দিন, রবিউল, আবু তাহের, রিফাত হোসেন, নায়েক মাজেদুল ইসলাম, আনসার পিসি সুমন মিয়া ও এপিসি আল মাহমুদসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর ১৯ জন সদস্য গুরুত্বর আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুরুত্বর আহত বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত)আব্দুর রহিম রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

মেলান্দহে নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন

একই ট্রেনে কাটা পড়ে পৃথক স্থানে ২ জনের মৃত্যু

বাবা হত্যার অভিযোগ: ছেলেকে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের ওপর হামলা, আটক ২

৪ বছরেও কাজ শেষ হয়নি, দুর্ভোগে ১০ লাখ মানুষ  

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ঢাকাস্থ জামালপুর সমিতির সভাপতি হাছান মাহমুদ, মহাসচিব শফিকুল ইসলাম

জামালপুরে মাইক্রোবাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১

মাদারগঞ্জে শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি 

মাদারগঞ্জে স্কুল ভ্যানে ট্রলির ধাক্কা, নিহত ১