রংপুর অঞ্চলে মৌচাষে বছরে শত কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:৫৬

রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় সরিষাখেত, লিচু এবং আমবাগানে পরিকল্পিতভাবে মৌমাছির চাষ করা হচ্ছে। মধু উৎপাদনের মাধ্যমে বছরে শত কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা অভিমত পোষণ করেছেন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অতিরিক্ত পরিচালক মাহবুবর রহমান জানিয়েছেন, রংপুর অঞ্চলের রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট এবং নীলফামারী জেলায় বিপুল পরিমাণ আম এবং লিচুবাগান ছাড়াও বিস্তীর্ণ সরিষাখেতে মৌমাছির চাষ করে প্রতি বছর শত কোটি টাকা মূল্যের মধু উৎপাদন করার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কারিগরি সহযোগিতায় গত কয়েক বছর ধরে এসব জেলায় বিভিন্ন সরিষাখেত ছাড়াও লিচু এবং আমবাগানে মৌমাছির চাষ করার পাশাপাশি চাষিরা সাথী ফসল হিসেবে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। চাষিদের ক্রমবর্ধমান উৎসাহের কারণে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ ইতিমধ্যে শতাধিক উন্নতমানের মৌবাক্স সরবরাহ করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌমাছি চাষ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ মো. রাকিবুল ইসলাম জনান, প্রতিটি মৌবাক্সে প্রতি মওসুমে নূন্যতম ১০ থেকে ২০ কেজি করে মধু পাওয়া যায়। এছাড়া মৌচাষের প্রকল্পভুক্ত সরিষাখেতের ফলনও অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি ঐ এলাকায় বিভিন্ন ফলের গাছের মুকুল এবং ফসলের খেতে মৌমাছির ব্যাপক সমাগমের মাধ্যমে প্রচুর পরাগায়নের সৃষ্টি হয়। এ কারণে ঐসব ফলের বাগান এবং খেতের ফলনও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। সিরাজগঞ্জের মৌসুমি মৌয়াল চান মিয়া জানান, প্রত্যেক গ্রীষ্ম মৌসুমে তারা মধু সংগ্রহের জন্য রংপুর অঞ্চলে আসেন। সাধারণত এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মধু সংগ্রহ শুরু হয়। মৌয়ালরা অভিযোগ করে জানান, আমাদের দেশে আম এবং লিচু বাগানে মৌচাষ বা মধু সংগ্রহের জন্য কোনো নিয়ম শৃঙ্খলা নেই। বাজারজাত করার ব্যাপারেও কোনো পরিকল্পিত উদ্যোগ নেই। এব্যাপারে সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে কেবল মৌচাষ করেই রংপুর অঞ্চলের চাষিরা শত কোটি টাকা আয় করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ স্বাবলম্বী হতে পারবেন। 

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের অতিরিক্ত পরিচালক দপ্তরের উপ-পরিচালক মাহবুবর রহমান জানান, রংপুর অঞ্চলে লিচু এবং আমবাগানসহ সরিষাখেতে মৌচাষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ লক্ষে মাস্টার ট্রেইনার তৈরি এবং গবেষণা কার্যক্রম চলছে। এই অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে মৌচাষ ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে ব্যাপক সাফল্যের কাজ করছে। ফলে চাষিরাও ক্রমান্বয়ে উৎসাহিত হচ্ছেন। তবে দক্ষ মৌয়ালের অভাবে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে মৌচাষে এগিয়ে আসতে পারছে না বলেও তিনি জানান। 

 

 

ইত্তেফাক/ইউবি