শহরের যারা থাকেন তাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনে গণপরিবহন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। একটা দিনও ভাবা যায় না গণপরিবহন ছাড়া। কিন্তু করোনাকালে গণপরিবহন, বাজার ও প্রার্থনালয়ে গেলে বাড়তি সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত। বিশেষ করে যখন ওমিক্রন-ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নতুন করে সংক্রমিত করতে শুরু করেছে। কীভাবে গণপরিবহনে সর্তক থাকবেন জেনে নিন।
গণপরিবহন বলতে শুধু যে বাস তা নয়, এর সঙ্গে আছে সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা ও ব্যাটারি চালিত অটো। তবে অনেকেরই কর্মক্ষেত্র ও স্কুল-কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে বাস ব্যবহার করতে হয়। অফিস শুরু ও ছুটির সময়ে ভীড় থাকে, কারণ ওই সময়গুলোতে বাসে ওঠার যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকে। যদিও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জানিয়েছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচল করা বাসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলবে। তার পরেও সর্তক থাকতে হবে।
- বাসা থেকে বের হওয়ার আগে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টিস্যু সঙ্গে রাখুন। প্রয়োজনে জীবাণুনাশক স্প্রেও রাখতে পারেন। রিকশা বা অটোরিকশায় বসার আগে সিটটিতে জীবাণুনাশক স্প্রে করে নিতে পারেন। এতে সুরক্ষিত থাকবেন।
- বাসে ওঠার আগে দেখবেন সেখানে শূন্য আসন আছে কিনা, না থাকলে পরের বাসের জন্য অপেক্ষা করুন। অনেক সময় ভীড় থাকে, তখন ভীড় এড়িয়ে চলবেন।
- যতটা সময় বাইরে থাকবেন তখন হাত দিয়ে অনেক কিছু স্পর্শ করবেন, সেই বস্তু থেকে ভাইরাস হাতে লেগে যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। অপরিষ্কার হাত দিয়ে কখনো নাক–মুখ–চোখ স্পর্শ করবেন না।
- বাসস্ট্যান্ডে বা পথে পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা হলে হাত মেলানো (হ্যান্ড শেক), কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন। দূরত্ব রেখে কথা বলুন। কোন কিছু ছোঁয়ার আগে অবশ্যই মাথায় রাখবেন সেখানে প্রাণঘাতী জীবাণু থাকতে পারে। তাই বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন।
- পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ভাড়া দেওয়ার পর টাকা ফেরত পেলে সেটি ওয়ালেটে রাখার পর হাত স্যানিটাইজ করুন।
- নিজে কাশির আদবকেতা বা রেসপিরেটরি হাইজিন মেনে চলার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি অন্যকেও উৎসাহিত করবেন। কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় নাক, মুখ রুমাল বা টিস্যু, কনুই দিয়ে ঢাকুন। টিস্যুটি ঠিক জায়গায় ফেলুন। গণপরিবহনে অনেকেই অসর্তক থাকেন হাঁচি বা কাশির সময়, সর্তক থাকুন।
- সব সময় নিজেকে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখুন। প্রতিদিনের জীবনে গণপরিবহন ব্যবহার করতেই হবে। তাই আতঙ্ক নয় বরং সচেতন থাকতে হবে। কারণ করোনা তার রূপ বদলে বারবার আমাদের আঘাত করছে। আর দূরত্ব কম হলে গণপরিবহন ব্যবহার না করাই ভালো। হাঁটুন, এতে শরীর ও মন দুটিই সুস্থ ও ফুরফুরে থাকবে।
