মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

তরুণ ছাত্রছাত্রীরাই হবে সফল উদ্যোক্তা

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৫৪

যে কোনো কাজে সফল হওয়ার জন্য সবার আগে প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি ও দৃঢ়তা। ইচ্ছাশক্তি ও মেধা কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশের অনেক পড়ুয়া তরুণ ছাত্রছাত্রী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলছে। খাদ্য, পোশাক, মৎস্য, চামড়া, আইটি ও পোলট্রি খামারসহ সব ধরনের কাজেই অবদান রাখতে শুরু করেছে এরা। শুধু তাই নয়, আমাদের বেকারত্বসহ অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করছে। দেশের কৃষি ও শিল্পে এক নতুন দিগন্তের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে তরুণ ছাত্রছাত্রী উদ্যোক্তাদের চলার পথ মোটেও সহজ ও মসৃণ নয়। পদে পদে তাদের নানারকম বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তাই বলে স্বপ্নের পথে হাঁটতে গিয়ে থেমে পড়লে চলবে না। কারণ জীবন পুষ্পশয্যা নয়। আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করতে হবে। এই কঠিন পথ পাড়ি দিয়েই হতে হবে স্বনির্ভর, আত্মপ্রত্যয়ী। আজকের দিনের উদ্যোক্তারা গবেষক-উদ্ভাবক-আবিষ্কারক। তাদের উদ্যোগেই আসছে নতুন নতুন আবিষ্কার। তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন দেখতে হবে এক সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশের।

হাজার ধরনের বিকল্প আমাদের সামনে পড়ে আছে। প্রয়োজন শুধু যে কাজটা আমরা ভালোভাবে করতে পারি, সেটা ঠিকমতো খুঁজে বের করা। সঠিক পরিকল্পনা আর যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়ে সেই কাজটা শুরু করা। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ সুবিধা পাওয়া এখন অনেক সহজ। ১৬ কোটির অধিক মানুষের বাস আমাদের এই দেশে। ভালো কোনো পণ্য কিংবা সেবা বাজারে আনতে পারলে ভোক্তার অভাব নেই। প্রয়োজন শুধু উদ্যোগ। নির্দিষ্ট অঙ্কের বেতন পাওয়ার জন্য সার্টিফিকেট নিয়ে বছরের পর বছর ঘোরার দরকার কী?

আত্মনির্ভরশীলতার জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার বিকল্প নেই। শিক্ষক ক্লাসে বাস্তবমুখী শিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে রূপান্তর করতে পারেন। যেমন বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করতে পারেন, শিল্প-কারখানা, ফার্ম-খামার, নার্সারি, মাঠ পর্যায়ে কোনো পরিদর্শন ও অংশগ্রহণমূলক (দলীয় ও জোড়ায়) কাজের আয়োজন করতে পারেন। একজন ছাত্র বা ছাত্রী বিদ্যালয়ের ঐ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তারা সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পথকে সুগম করতে পারবে। ছাত্রছাত্রীরা তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন সৃজনশীল জিনিস আবিষ্কার করে ফেলতে পারে। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাই আগামী দিনের স্যামসন এইচ. চৌধুরী, জহুরুল ইসলাম, রণদা প্রসাদ সাহার মতো সফল উদ্যোক্তায় পরিণত হতে সাহায্য করবে।

উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য কাউকে নামকরা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে হয় না। বিশ্বের সব সফল উদ্যোক্তার জীবনী পড়লে দেখা যায়, অধিকাংশ উদ্যোক্তা নিজেদের চেষ্টায় পরবর্তী সময়ে বদলে দিয়েছেন সময়কে। বদলে দিয়েছেন পৃথিবীকে। আমরাও আমাদের পৃথিবীটাকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাব সামনে। আমাদের তরুণ ছাত্রছাত্রীরা তাদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বদলে দেবে পৃথিবী, বদলে দেবে বাংলাদেশকে।

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সড়কে বিশৃঙ্খলা আর কত দিন?

গবেষণা নিয়ে সাম্প্রতিক উপলব্ধি ও কিছু পরামর্শ 

দরিদ্র ও প্রবীণ জনগোষ্ঠী এবং সঞ্চয়পত্রের মুনাফা প্রসঙ্গে 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যথাযথ দায়িত্ব পালন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে করোনার থাবা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ 

প্রতিশ্রুতি প্রদানে সতর্ক হওয়া উচিত

ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজারের নেপথ্য সমস্যা

অস্পষ্টতা গুজব সৃষ্টির সহায়ক