ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে ছাত্রদল সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুললেন সহসভাপতি

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:৩১

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের বিরুদ্ধে ছাত্রদল সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রলীগেরই সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ। আল নাহিয়ান খান জয় এবং তার পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত বলে এক লাইভে তিনি বক্তব্য দেন। শনিবার রাত ১১টায় নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে লাইভে এসে এসব বক্তব্য দেন রিয়াদ। 

জয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলেন আল নাহিয়ান। অভিযোগ আছে, তখন তাঁর ফুফাতো ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। তাঁর কক্ষে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিং করেছেন, ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন আল নাহিয়ান। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে তিনি ছাত্রদলের হয়ে ধানের শীষে ভোট চেয়েছিলেন। সাম্প্রতিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আপন চাচাতো ভাইকে নিজের ক্ষমতাবলে নৌকার বিরুদ্ধে জিতিয়েছেন আল নাহিয়ান।

অভিযোগের কোন স্বচ্ছ জবাব ছাত্রলীগ সভাপতি দিচ্ছেন না উল্লেখ করে রিয়াদ বলেন, যারা ছাত্র রাজনীতি করবেন তাদের স্বচ্ছতার সহিত ছাত্ররাজনীতি করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে যখন কোন অভিযোগ উঠবো তখনই তারা অভিযোগের বিষয় ধামাচাপ দেয়ার চেষ্টা করবেন না। যদি তারা ধামাচাপা দেন, তাহলে কর্মীদের মাঝে, শিক্ষার্থীদের মাঝে, যারা আমাদের অনুসরণ করেন তাদের মধ্যে ধোঁয়াশা, বিভ্রান্তি তৈরী হবে। ছাত্রনেতা হিসেবে যেটি  মোটেও কাম্য নয়। 

ইয়াজ আল রিয়াদের অভিযোগ, আল নাহিয়ানের বাবা ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বাবুগঞ্জ-উজিরপুর আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সেই নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তার বাবা ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর বিমা কোম্পানিতে চাকরি করেছিলেন। তিনি তৎকালীন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার পিএ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন আওয়ামী লীগ বর্জন করেছিল, সেই নির্বাচনে বিএনপির ডামি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন আল নাহিয়ানের বাবা।

ছাত্রলীগ সভাপতিকে এসব অভিযোগের জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান রিয়াদ। তিনি বলেন, অভিযোগ উঠতেই পারে। অভিযোগের জবাব তাকেই দিতে হবে। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তাকে নিয়ে যেন কোনো ধোঁয়াশা তৈরি না হয়, নেতা-কর্মীরা যাতে বিভ্রান্ত ও আদর্শচ্যুত না হন, সেই জায়গা থেকে তার উচিত অভিযোগগুলো খণ্ডন করা।

লাইভের একপর্যায়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন রিয়াদ। তিনি বলেন, আল নাহিয়ান ও লেখক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তারা অনিয়মতান্ত্রিক ও সংগঠনবিরোধী অনেক কর্মকাণ্ড করে সংগঠনকে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন করছেন। এসব বিষয় নিয়ে যাঁরা কথা বলেন, যারা দুঃসময়ের আওয়ামী পরিবারের সন্তান, তারা তাদের চিহ্নিত করে সংগঠন থেকে দূরে সরিয়ে রাখছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খানকে কল দেয়া হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। 

ইয়াজ আল রিয়াদের বক্তব্য নিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কারো কোন মন্তব্য না পাওয়া গেলেও তাদের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন তাদের অনুসারীরা।  

একই কমিটির আরেক সহসভাপতি রাকিব হোসেন লিখেন, কিছুদিন আগেও জয় ভাইয়ের পক্ষে স্ট্যাটাস দিয়েছে, জয় ভাইয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এরকম নিউজ হওয়ায় ঐ সাংবাদিক কে আপনি শিবির বলে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, স্ট্যাটাস দেয়ার কিছুক্ষণ পর আপনি ল ফ্যাকাল্টিতে গিয়ে জয় ভাইয়ের সাথে গলাগলি ধরে অনেকক্ষণ কথা বললেন। স্বার্থে আঘাত লাগলে সবাই কমবেশি ক্ষোভ প্রকাশ করে। 

কেউ কেউ লিখছেন, ক্যাম্পাসের প্রতিটি মানুষ জানে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু আপনি। দুজনে একসাথে হলের সেক্রেটারি হয়েছেন, একই ব্লকে রাজনীতি করেছেন, দীর্ঘদিন একসাথে চলেছেন। এতদিন কোন অভিযোগ ছিলোনা, কোন অনুযোগ ছিলোনা, হঠাৎ কি এমন ঘটলো যে গত ২-৩ মাস থেকে তিনি আপনার কাছে অনুপ্রবেশকারী, বিএনপি ফ্যামিলির হয়ে গেলো!

ইত্তেফাক/এসটিএম