শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মাঝে এবার শিক্ষকদের একাংশ মানববন্ধন করেছেন। বুধবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে তারা এ মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লায়লা আশরাফুন বলেন, আমার সন্তান এখন অশুভ করালগ্রাসে। এখন তারা বাবা-মা (শিক্ষক-শিক্ষিকা) সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলে। আমি চাই আমার সন্তান (শিক্ষার্থীরা) আমার কোলে এসে মানুষ হোক। তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সুবিধাভোগী শ্রেণি না। আমরা সাধারণ শিক্ষকেরা সমগ্র বাংলাদেশের নারী শিক্ষকদের ব্যানারে এখানে দাঁড়িয়েছি।
নিজেদের বুদ্ধিজীবী বলে দাবি করে অধ্যাপক ড. লায়লা আশরাফুন বলেন, আমরা সম্মানটুকুর জন্যই শিক্ষকতা পেশায় এসেছি। আমরা বুদ্ধিজীবী শ্রেণিতে বিলং করি (অন্তর্ভুক্ত)। আমরা কোনো চাষাভুষা নই যে আমাদের যা খুশি তাই বলবে। বাংলাদেশের সমস্ত মানুষ আজ রক্ত দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। সেই বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আমরা ২০২২ সালো এসে কেন আমরা এই অপমানের শিকার হবো। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা আমরা জানি না। এই হামলা কে বা কারা করেছে এটা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। রাষ্ট্র এই তদন্তের কাজ করতে পারে।
এ সময় মানববন্ধনরত শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষকরা জাতির বিবেক। আমরা ছাত্রদের গড়ে তুলি। তারা আমাদের সন্তানের মতো। আন্দোলন করতে গিয়ে তারা নারী শিক্ষকদের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, স্লোগান দিচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দিচ্ছে। যেকোনো একজন শিক্ষকের জন্য সব শিক্ষকদের নিয়ে তারা এভাবে বলতে পারে না।
মানববন্ধনে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দীন, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক আমিনা পারভীন, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. হিমাদ্রি শেখর রয় সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
তবে শিক্ষকদের এসব দাবি নাকচ করে আন্দোনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আন্দোলনকারীরা শিক্ষকদের নিয়ে এসব লেখা কোথাও লিখছি না। হতে পারে, তাদের মধ্যে থেকে এসব করা হচ্ছে যেন আমাদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়া যায়। তবে সত্যিই এ ধরনের কাজ কেউ করে থাকলে আমরা আন্দোলনকারীরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। সেটি মোটেও আন্দোলনের অংশ নয়।
