শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অষ্টম দিন আজ। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন ও আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছেন। এ আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহমর্মিতা নয়, একাত্মতা চান বলে জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০-৩০ জন শিক্ষকের একটি প্রতিনিধি দল আন্দোলনকারীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। এসময় তারা বলেন, আমরা তোমাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। এ ক্যাম্পাসে যাতে আর এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে আমরা সে পরিবেশ নিশ্চিত করব। আমরা এ ব্যাপারে আলোচনা করে সমাধানে যেতে চাই।
এসময় শিক্ষার্থীরা শাবি কোষাধ্যক্ষের আলোচনার বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, 'স্যার এখন আর আলোচনার কোন পথ খোলা নেই। আমরা যখন আলোচনার জন্য বসে ছিলাম তখন আপনারা আসেন নাই। এখন আমাদের একটাই দাবি, যে ভিসি গুলি করার অনুমতি দেন তিনি আর ভিসি থাকার অধিকার রাখেন না। গুলিতে যারা আহত হয়েছে তাদের কেউ মারা যেতে পারতো। ভিসিকে তখন আমরা অ্যাটেম্পট টু মার্ডারের আসামি করতাম। সে হিসেবে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ আর আমাদের ভিসি থাকার অধিকার রাখেন না।'
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আমরা এখন আর সহমর্মিতা চাই না। আমরা আপনাদের একাত্মতা চাই, স্যার।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার থেকে শাবির বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজার পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলাকালে এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করা হয়। উপাচার্যকে মুক্ত করতে ও শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি শাবি উপাচার্যের পদত্যাগের আন্দোলনে রূপ নেয়। এরপর গতকাল বুধবার দুপুর থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এ দাবিতে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
