উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে কমলগঞ্জে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে ভূমিধ্বসের ঘটনা ঘটছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে চা-বাগানগুলো। কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগরের ফাঁড়ি সুনছড়া ও কামারছড়া চা-বাগান থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের বিষয়ে ইতিপূর্বে বাগান কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো কাজ হয়নি।
চা-বাগান কর্তৃপক্ষ গত বছরের জুনে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়। এতে উল্লেখ করা হয়, সুনছড়া ও রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের মধ্যবর্তী ছড়া বালুমহাল না হলেও ব্যাপকহারে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ট্রাকের কারণে চা-বাগানের রাস্তাঘাট চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বালু উত্তোলন স্থানের ছড়ায় ভাঙনের ফলে চা সেকশনসমূহে মারাত্মক ভূমিধস দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় জানা যায়, পাহাড়ি সুনছড়া ও কামারছড়া এবং পার্শ্ববর্তী টিলা খুঁড়ে সিলিকা বালু উত্তোলন করে ট্রাকযোগে পরিবহন হচ্ছে। স্থানীয় একটি চক্র সুনছড়া ও কামারছড়ার বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে সিলিকা বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৮ জুন প্রজ্ঞাপন দ্বারা মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত ৫১টি পাহাড়ি ছড়া সিলিকা বালু সম্পৃক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যে ১৯টিকে অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা প্রদান করা হয়। কিন্তু ইজারা গ্রহীতারা অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনিভাবে বালু উত্তোলন শুরু করলে ২০১৬ সালের ৮ মার্চ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করে। পরে ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ১৯টি বালুমহালকে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) ও পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) ছাড়া পরবর্তী ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। তবে উচ্চ আদালতের এসব বিধিবিধান উপেক্ষা করে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে প্রতিনিয়ত সুনছড়া ও কামারছড়া থেকে বালু উত্তোলন চলছে। আলীনগর চা-বাগান ব্যবস্থাপক হাবিব আহমেদ চৌধুরী জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বিষয়ে গত বছরে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে দুই দফা আবেদন করা হয়েছে। এরপরও কার্যকর কোনো পদক্ষেগ গৃহীত না হওয়ায় আমরাও এখন আতঙ্কগ্রস্ত।
পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার সিলেট বিভাগীয় সমম্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা বলেন, আদালতের রায়কে অমান্য করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আদালত অবমাননার শামিল। অধিকাংশ ছড়া চা-বাগানের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ চা বোর্ডের উচিত পূর্ণাঙ্গ তথ্যদি তৈরি করে তা উপস্থাপন করা। বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা বলেন, ছড়াগুলো ইজারা প্রদান করা হয়নি। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
