বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কৃষকের ১০ হাজার তরমুজ গাছ উপড়ে ফেললেন পাউবো’র প্রকৌশলী

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১০:২১

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক কৃষকের ১০ হাজার তরমুজ গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বেড়িবাঁধ রক্ষা প্রকল্পের প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

উপজেলার ধুলাস্বার ইউনিয়নের পশ্চিম চাপলি গ্রামের ভূমিহীন কৃষক দেলোয়ার খলিফার অভিযোগ, গত রবিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে তার আবাদ করা প্রায় ১৫ হাজার তরমুজ গাছের মধ্যে ১০ হাজার গাছ উপড়ে ফেলেন প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম মনির।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দেলোয়ার খলিফা জানান, নিজের বসতভিটার বাইরে এক ইঞ্চি জমিও নেই তার। সংসারে সচ্ছলতার আশায় কুয়াকাটায় পানি উন্নয়ন উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ঢালে গত কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষ করেছিলেনজ। ফলনও ভালো । তাই এবার একটু বড় উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছিলেন দুই লাখ টাকা। রোপণ করেছিলেন ১৫ হাজার তরমুজ গাছ। মৌখিক অনুমতিও নিয়েছিলেন পাউবো এবং বন কর্মকর্তাদের থেকে। তাগড়া হয়ে উঠেছিল গাছগুলো। মাসখানেক পরেই বিক্রি উপযোগী হবে তরমুজ। উচ্চফলন প্রত্যাশায় দিনরাত যত্নআত্তিতে সময় ব্যয় করছিলেন স্বামী-স্ত্রী। যদি একটু সুখ মেলে। সচ্ছলতা আসে সংসারে। তরমুজ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের স্বপ্নও বড় করছিলেন দেলোয়ার খলিফা। ঋণের টাকা পরিশোধের পর যে টাকা থাকবে...কতো স্বপ্ন। নি:স্ব মানুষ অল্পতেই স্বপ্ন দেখে। 

উপড়ে ফেলা তরমুজ গাছ।

কিন্তু রবিবার হঠাৎ পাউবোর প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম মনির এবং তার সহযোগী সার্ভেয়ার হাসানসহ ৬-৭ জন এসে দেলোয়ার খলিফার প্রায় ১০ হাজার গাছ একযোগে উপড়ে ফেলেন। কর্মকর্তাদের হাতে-পায়ে ধরে কেঁদেছেন দেলোয়ার খলিফা ও তার স্ত্রী সালমা বেগম। মাত্র একটা মাস, এরপরেই বিক্রি করা যেত তরমুজগুলো।  কিন্তু মন গলেনি ওই কর্মকর্তার। এমন কাণ্ড থামাতে ছুটে এসেছিলেন গ্রামের সাধারণ মানুষও। অসহায় দেলোয়ারের এমন সর্বনাশ ঠেকাতে সবাই অনুরোধ করেছেন কর্মকর্তাদের। কিন্তু বিপুলসংখ্যক মানুষের অনুরোধও গ্রাহ্য করেননি তারা। সবার সামনেই গাছগুলো নিজের হাতেই উপরে ফেলেছেন। পাশে দাঁড়িয়েই অঝোরে চোখের জল ফেলেছেন দেলোয়ার খলিফা আর সালমা বেগম। নিজেদের শ্রম আর ঘামে বোনা স্বপ্নগুলোর মৃত্যু দেখছিলেন নিজ চোখে। কিন্তু কিছুই করার ছিলনা।

 নিজেদের শ্রম আর ঘামে বোনা স্বপ্নগুলোর মৃত্যু দেখছিলেন নিজ চোখে।

কাঁদতে কাঁদতে দেলোয়ার আরও জানান,  এখানে দায়িত্বে থাকা বনবিভাগের মোশাররফ নামের অফিসারকে ১০ হাজার টাকাও দেই। তারা প্রতিদিন এখানে আসতো গাছ দেখতো কিন্তু আজকে হঠাৎ এসে আমার প্রায় ১০ হাজার গাছ নিজে উপড়ে ফেললো আমি অনেক কান্নাকাটি করেছি, হাত, পা ধরেছি কিন্তু তারা শোনেনি। আমাকে ১টি মাস সময় দিলে আমার এই সর্বনাশটা হতো না। এখন আমার গাছ উপড়ে ফেলছে আর আমাকে বার বার মামলার হুমকি দিয়ে গেছে।

টাকা নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে বনবিভাগের দায়িত্বে থাকা গঙ্গামতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ জানান, আমি কোনো টাকা পয়সা নেইনি। এগুলো সব মিথ্যা। তাকে নিষেধ করার পরও সে গাছ লাগাইছে। ওখানে ঘাস নষ্ট হওয়ার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ার গাছ উঠাইছে আমি উঠাইনি।

কর্মকর্তাদের হাতে-পায়ে ধরে কেঁদেছেন দেলোয়ার

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বেড়িবাঁধ রক্ষা প্রকল্পের প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, ওখানে তরমুজ গাছ লাগিয়েছে আমি আগে দেখিনি আজকে দেখলাম, আর আমাদের বেরি বাধ রক্ষায় লাগানো ঘাস কেটে উঠিয়ে ফেলার কারণে কিছু জায়গা রেখে বাকি তরমুজ গাছ আমি উঠিয়ে ফেলেছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন জানান, ওই স্থানে এখন প্রকল্প আওতাধীন কাছ হচ্ছে। আমরা নিজেরা আর কিছু দিন পর কাজ শুরু করবো। তবে এই ব্যাপারে আমি এখনো শুনিনি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি যদি লিখিত কোনো অভিযোগ পেয়ে থাকি তাহলে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখবো।

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

নান্দাইলে লোকসানের মুখে শসা চাষিরা

বিশেষ সংবাদ

জয়পুরহাটে বৃষ্টিতে পচছে ধান, কাটা হয়েছে ৫০ শতাংশ

৩টি শীষ থেকে বিঘায় মিলছে ৩৫ মণ ধান

কাহারোলে ভুট্টার বাম্পার ফলন 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

হংকংয়ে যাচ্ছে সাতক্ষীরার আম

শ্রমিকসংকটে ধান কাটা ব্যাহত, শঙ্কায় কৃষক

‘আসানি’র আশঙ্কায় আগাম আম পেড়ে ফেলছেন চাষিরা

বাজারে এখন সহজেই মিলবে দেশি শোল