বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ক্রমাগত সন্দেহ, অবিশ্বাস, অশ্রদ্ধা এমনকি নিখাদ বিদ্বেষের রূপ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। সংগঠনটি বলছে, বিগত তিন দশক ধরেই ক্ষমতাসীনদের অনুগত শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন শিক্ষার্থীদের যেকোন ন্যায্য আন্দোলনকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। এ ধরনের প্রশাসনগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিচালনা করার কাজে নিজের সন্দেহবাতিকতা আর গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর বোধবুদ্ধি দিয়ে ব্যবহার করে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রবাহিনী আর পুলিশের নির্মম নিপীড়ন তো থাকেই। এছাড়া শত শত শিক্ষার্থীর উপর মামলা সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদী আইনি হয়রানির ঘটনা রয়েছে।
বুধবার (২৬ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এমন মন্তব্য করা হয়। চিঠিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশি হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষায়তনে অচলাবস্থা নিরসনে আশু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ জন শিক্ষক এ চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।
চিঠিতে বলা হয়, 'আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছি যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি নিয়ে মধ্য জানুয়ারি থেকে চলমান অহিংস আন্দোলনকে সরকারি ছাত্র সংগঠন ও পুলিশ বাহিনীর সহিংসতা দিয়ে দমনে ব্যর্থ হয়ে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একের পর এক নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। যা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার ইতিহাসে এক কদর্য অধ্যায়ে পরিণত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে শুরু হওয়া একটি ন্যায্য আন্দোলন এই সমস্ত পদক্ষেপের কারণে আজ শাবিপ্রবির নিপীড়িত শিক্ষার্থীদের মরণপণ এক দফা দাবির আন্দোলনে পরিণতে হয়েছে যে উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হবে।'
'নিজের কৃতকর্মে ন্যূনতম শিক্ষকসুলভ মনোভাবের পরিচয় দিতে ব্যর্থ হওয়া এই উপাচার্য' শাবিপ্রবির দায়িত্বে থাকবার সমস্ত নৈতিক ও আইনি অধিকার হারিয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক মনে করে এবং তার আশু পদত্যাগ দাবি করছে।
চিঠিতে পাঁচটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হল- দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাবিপ্রবির উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হবে। ক্যাম্পাসে পুলিশি হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করতে হবে, আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সাবেক শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং আন্দোলনকারীদের পরিবারের উপর পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
