ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফুলবাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষক বিপাকে পড়েছেন। ডিজেলচালিত শ্যালোমেশিনের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার কৃষকের মধ্যে অনেকেই বোরো চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বোরো চাষের জমির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।
এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৯৩৯ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে। গভীর নলকূপ ৮৬টির মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমি, অগভীর নলকূপ/ বিদ্যুত্নির্ভর সেচযন্ত্র ১ হাজার ৩২০টির মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি, ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র (শ্যালোমেশিন) প্রায় ৪ হাজারটির মাধ্যমে ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। উভয় সেচের সুবিধাভোগী কৃষকের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার জন।
কৃষকদের দেওয়া তথ্য মতে, সাধারণ দোআশ মাটিতে বোরো চাষে সেচ দিতে হয় গড়ে ৩০টি। এতে হেক্টরপ্রতি ডিজেল লাগে ২২৫ লিটার। অপরদিকে, চরাঞ্চলের জমিতে মৌসুমে গড়ে ৫০টি সেচ দিতে হয়। এতে হেক্টরপ্রতি ডিজেল লাগে ৩৭৫ লিটার।
বর্তমান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ডিলাররা কৃষকদের কাছে প্রতি লিটার ৮০ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করছেন। অন্যদিকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারসহ চরাঞ্চলের বাজারে খুচরা বিক্রেতারা কৃষকদের কাছে ৮৫ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করছেন। গত বছর ডিলাররা প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি করত ৬৫ টাকা এবং খুচরা বাজারে ব্যবসায়ী বিক্রি করত ৭০ টাকায়। এ বছর বোরো ও চলতি মৌসুমে ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রে চাষ করা জমিতে হেক্টরপ্রতি মোটা অঙ্কের বাড়তি খরচ হবে উপজেলার কৃষকদের। কৃষকরা জানান, বাড়তি ব্যয়ের ফলে বোরো চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক কৃষক।
উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোরকমণ্ডল গ্রামের কৃষক ওসমান গণি জানান, প্রতি বছর পাঁচ বিঘা জমিতে ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে বোরো চাষ করলেও এবার ডিজেলের দাম বাড়ায় তিন বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। প্রতি লিটার ডিজেল ৮৫ টাকা দরে কিনে এবছর বোরো চাষে লোকসান গুনতে হবে। একই ইউনিয়নের চর-গোরকমন্ডল এলাকার কৃষক ছামাদ আলী বলেন, আমাদের চর এলাকার এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে কমপক্ষে ৫০ লিটার ডিজেল লাগে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো চাষ নিয়ে আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। চর-মোরকমন্ডল চরাঞ্চলের কৃষক ছাইদুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, তাদের এলাকার জমিতে প্রতিদিন সেচ দিতে হয়। ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে অনেকে বোরো চাষ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পাওয়ার টিলার মালিক ছাইদুল ইসলাম বলেন, আগে বিঘাপ্রতি হালচাষে ৬০০ টাকা নিতাম। ডিজেলের দাম বাড়ায় এখন ৮০০ টাকা নিচ্ছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন জানান, ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বোরো চাষে কিছুটা খরচ বাড়বে। তবে ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে যে সব কৃষক বোরো চাষ করবেন তাদেরকে অলটারনেটিভ ওয়াটারিং অ্যান্ড ড্রাইং (এ.ডব্লিউ.ডি) পদ্ধতিতে চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে পানির অপচয় হবে না। ফলে ব্যয় অনেকটা কমে আসবে।

