অসময়ের বৃষ্টিপাতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের চা-বাগানের আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ঠান্ডায় আলুর মড়কসহ সবজিখেতে নানা ধরনের ছত্রাকের আক্রমণ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষক। বুধবার বিকাল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কমলগঞ্জ উপজেলায় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়।
সরজমিনে উপজেলার চা-বাগান ঘুরে দেখা যায়, দুই দিনের বৃষ্টির কারণে চা-বাগান সংশ্লিষ্টরা উৎফুল্ল। প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত ও সহনীয় তাপমাত্রা চা উৎপাদনের মূল নিয়ামক। শুষ্ক মৌসুমে দীর্ঘ অনাবৃষ্টির কারণে চা-বাগানের সেকশনসমূহে সেচ প্রদান করতে হয়। তবে আকস্মিক বৃষ্টিতে চা-গাছের সজীবতা ফিরে এসেছে। চা-বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন চা গাছগুলোর প্র‚নিং (মাথা ছাঁটাই) করা হচ্ছে। এই সময়ে আকস্মিক বৃষ্টি চা গাছের জন্য আশীর্বাদের মতো। এতে চা গাছে দ্রুত কঁচি পাতা গজাবে। কোনো কোনো সময় মার্চ, এপ্রিলেও চাহিদামতো বৃষ্টি হয় না। বৃষ্টি না হলে চা গাছে সেচ প্রদান করতে হয়।
অন্যদিকে টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চল পতনউষার, মুন্সীবাজার, শমশেরনগরসহ বিভিন্ন এলাকার সবজি চাষিরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষত আলুখেতে মড়ক ধরে পচন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। আবার টম্যাটো, সিমসহ অন্য সবজির জন্য অসময়ের বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। আলীনগরের কৃষক সফিক মিয়া, পতনউষারের কৃষক ও ইউপি সদস্য তোয়াবুর রহমান তবারক বলেন, বৃষ্টিপাত বোরো চাষাবাদ ও অন্যান্য সবজিখেতের জন্য উপকারী হলেও আলুখেত নষ্ট করে ফেলছে। কিছু কিছু স্থানে মড়ক দেখা দিয়েছে। তাছাড়া বৃষ্টির পর ঠান্ডায় আলুখেতে মড়ক দেখা দেওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান জানান, বুধবার বিকাল ৫টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৪ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনি খান জানান, আসলে এই সময়ের বৃষ্টিপাত কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। এটি খুবই উপকারী। এই বৃষ্টিতে উপকার ছাড়া কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
