অস্তিত্বসংকটে ১০ নদী

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৪৯

ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা নদ-নদীগুলো এখন দখল-দূষণে বিপন্ন। দখল-দূষণ এবং নাব্য হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে মরা খালে পরিণত হয়েছে উপজেলার অন্তত ১০টি নদী। নদীগুলো এখন বালুচরে পরিণত হচ্ছে। অনেক সহানে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নদীর অস্তিত্ব। একসময়ের নদীকেন্দ্রিক জীবিকায় নির্ভরশীলরা এখন পেশা বদলে অচেনা পেশায় টিকে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত। 

ধোবাউড়া উপজেলায় সাতারখালী, ঘাগটিয়া, তারাই, সুতিয়া, গুদাইরা, প্যাছাই, গুমুরিয়াসহ অন্তত ১০টি নদী রয়েছে। এই নদীগুলোর বুকে এখন কেউ বা ধান গাছ, কেউ বা কৃষিপণ্য রোপণ করে দখল করে নিয়েছেন। অনেকে ঘের দিয়ে পানি আটকিয়ে মাছ ধরছে। এতে এক দিকে যেমন ফসলে সেচের অভাব দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ। সরজমিনে ঘুরে প্রায় সবগুলো নদীর এই চিত্র চোখে পড়েছে।

জানা যায়, ধোবাউড়ার ১০টি নদীর মধ্যে প্রধান দুটি নদ কংশ এবং নেতাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। এক সময় উপজেলার গোয়াতলা বাজার থেকে পোড়াকান্দুলিয়া বাজার পর্যন্ত কংশ নদ দিয়ে বড় বড় নৌ-যান চলাচল ছিল। নদী পথে বিভিন্ন স্থান থেকে মালামাল আমদানি-রপ্তানি করা হতো। বর্তমানে বর্ষাকালে মাত্র কয়েক মাস এ ধরনের চিত্র দেখা গেলেও বছরের অধিকাংশ সময়ই কংশ নদের বুকে বালুচর জেগে উঠে। অন্যদিকে নেতাইয়ের অবস্থা আরো খারাপ। নদীর সেই জৌলুস আর নেই। বিভিন্ন সহানে দখল-দূষণ আর নাব্যতা সংকটে বিলীনের পথে ঐতিহ্যবাহী এই নদ দুটি।

তারাকান্দি গ্রামের কৃষক মৌলাম হোসেন জানান, তারাই নদী থেকে ফসলের জন্য পানি দিয়ে ফসল ফলাতাম। কিন্তু নদী ভরাট হয়ে দখল হয়ে যাওয়ায় সেই ব্যবস্থা এখন আর নেই। ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বলেন, ভারত থেকে প্যাছাই নদীতে পানি আসলে কৃষকরা অনেক সুবিধা পেয়ে থাকে। কিন্তু নদীগুলো নাব্য সংকটে বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। এসব নদী খনন করা হলে কৃষকদের জন্য ভালো হতো। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিকুজ্জামান জানান, নদীগুলো খননের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি শিগ্গিরই এসব নদী খনন করা সম্ভব হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান ডেভিড রানা চিসিম জানান, কৃষকদের সুবিধার্থে আমরা ইতিমধ্যে দু-একটি ছোট নদী খননের উদ্যোগ নিয়েছি। 

ইত্তেফাক/ ইআ