স্বামীর পরকীয়া আর অর্থ লোভের বলি বৃষ্টি

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২২, ২০:৩৮

প্রতি মাসের বেতন ও আগের স্বামীর কাছ থেকে দেনমোহর হিসেবে পাওয়া টাকা হাতিয়ে নিতে বৃষ্টি আক্তারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে আসাদুল ইসলাম। এক পর্যায়ে ২০২০ সালে  বৃষ্টিকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের আগে বৃষ্টির প্রতি অনেক সহমর্মিতা দেখাতো। কিন্তু বিয়ের পর রূপ পাল্টে যায় আসাদুলের।

পারিবারিক কলহে ১৩ জানুয়ারি রাতে বৃষ্টিকে (২৩) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর পালিয়ে যান আসাদুল। ঘটনার দুইজন পর তার লাশ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে ৩০ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আসাদুলকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সোমবার ( ৩১ জানুয়ারি)  রাজধানীর কাওরানবাজার র‌্যাবর মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪ এর অধিনায়ক মো. মোজ্জাম্মেল হক  এ সব তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৃষ্টি আক্তারের (২৩) বাড়ি  কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানায়। ২০১২ সালে বৃষ্টির প্রথম বিবাহ হয়। প্রথম স্বামীর সংসারে তার ৬ বছর ও ৪ বছরের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। তারা খালার কাছে থাকে। ২০১৯ সালে বৃষ্টির স্বামী আরেকটি বিয়ে করলে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পরে বৃষ্টি গাজীপুরে একটি  গার্মেন্টসে চাকরি নেন। সেখানে চাকরির সময় আসাদুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

তিনি আরও জানান, আসাদুল একজন লোভী এবং ধূর্ত প্রকৃতি। বৃষ্টির ডিভোর্সের টাকার জন্য কৌশলে তার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের আগে আসাদুল বৃষ্টির প্রতি অনেক সহমর্মিতা দেখাতো। কিন্তু বিয়ের পর পরই তার রূপ পাল্টে যায়। বৃষ্টির আগের স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া টাকা ও মাসিক বেতনের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। এর মধ্যে তারা গাজীপুর থেকে আশুলিয়ায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়ে গার্মেন্টসের কাছে বাসা ভাড়া নেয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, তারা দুজনেই একই মোবাইল ব্যবহার করতো। তাদের বেতনের টাকা সেই মোবাইলেই আসত। বেতনের টাকা আসাদ নিজে উত্তোলন করত। বৃষ্টির প্রথম পক্ষের দুই সন্তান থাকায় তাকে সন্তানদের খরচ প্রদান করতে হতো। সেই টাকা চাইলে  আসাদ  দিতো না। এমনকি বৃষ্টির হাতখরচের টাকা দিতো না আসাদ। এর মধ্যে আসাদ একাধিক পরনারীতে আসক্ত হলে তাদের সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটে। আসাদ অন্য মেয়েদের সঙ্গে ইমো ও ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ রাখতো। ঘটনার দিন ১৩ জানুয়ারি রাত ১২টায় আসাদের মোবাইলে অন্য নারীর আপত্তিকর ছবি, কথোপকথন দেখতে পেয়ে রাগ করে বৃষ্টি মোবাইল ভেঙে ফেলে।  আসাদও ক্ষিপ্ত হয়ে বৃষ্টির কিস্তির টাকায় কেনা টিভি ভেঙে ফেলে। তাদের মধ্যে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আসাদ বৃষ্টির গলা টিপে ধরে। এতে বৃষ্টি মারা যান। মৃত্যুর পর লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। পরে লাশ নামিয়ে লুঙ্গি দিয়ে ভিকটিমের মুখ ঢেকে রাখে। পরে আসাদ তার মা ও ফুপুকে ঘটনাটি জানিয়ে ঘরে তালাবন্ধ করে পালিয়ে যায়।

পর দিন আসাদের ফুপু ভিকটিমের বড় বোন আকলিমাকে মোবাইলে কল করে বলে বৃষ্টি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। এর পরই তিনি মোবাইল বন্ধ করে দেন। পরে আসাদের  মা মোবাইলে কল করে বৃষ্টি মারা গেছে বলে তার পরিবারকে জানায়। পরে বৃষ্টির ভাই গাজীপুর থেকে সাভারের আশুলিয়ায় এসে বৃষ্টির ঠিকানা না পেয়ে আশুলিয়া থানায় যোগাযোগ করে। ১৫ জানুয়ারি  তারা আসাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে গিয়ে ঠিকানা সংগ্রহ করে। পরদিন দুপুরের আশুলিয়ায় সরকার বাড়িতে গিয়ে দরজায় তালাবন্ধ দেখতে পান বৃষ্টির ভাই। পরে দরজার নিচ দিয়ে বৃষ্টির পা দেখতে পেয়ে আশুলিয়া থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ বৃষ্টিকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

 

ইত্তেফাক /কেএইচ/ইউবি