বাংলাদেশে গুম বা নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সম্পদ নিয়ে পরিবারগুলো যেমন বিপাকে রয়েছে তেমনি যুক্তরাজ্যেও নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদ এবং ঋণের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিতর্ক চলছে। এ অবস্থায় ব্রিটিশ সরকার নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পদ এবং ঋণের ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি আইনের প্রস্তাব করেছে। এ আইন বলে নিখোঁজ হওয়ার ৯০ দিন পর পরিবার বা আপনজন চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পদ এবং আর্থিক বিষয়াদি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে পারবে। তবে আদালতের অনুমোদনক্রমে তা করতে হবে। একই সাথে ব্রিটিশ সরকার ‘সার্টিফিকেট অব প্রিজিউমড ডেথ’ (অনুমান নির্ভর মৃত্যু সনদ) চালু করতে যাচ্ছে। নতুন এ আইনের প্রস্তাবনা জনমত যাচাইয়ের (পাবলিক কনসালটেশন) জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।
দেশটিতে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদের মালিকানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল থাকে। এ অবস্থায় নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদ যেমন বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসা ইত্যাদি ব্যবস্থাপনার অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে এবং তার নামে থাকা ব্যাংক ঋণ, বাড়ির মর্গেজ বা চুক্তিভিত্তিক মোবাইল, ইন্টারনেটের বিল সময়মত পরিশোধ না করার কারণে নিখোঁজ ব্যক্তি আর্থিক জরিমানার শিকার হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক রেকর্ডে (ক্রেডিট স্কোর) নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে নিখোঁজ ব্যক্তির আপনজন সম্পদগুলো চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখলেও আইনগত অধিকার না থাকার কারণে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না।
সরকারের নতুন প্রস্তবনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার ৯০ দিন পার হলে ঐ ব্যক্তির পরিবার তার অর্থনৈতিক এবং আইনগত বিষয়াদি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে পারবে। সংশ্লিষ্ট পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত সর্বোচ্চ চার বছরের জন্য পরিবারের একজনকে নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদ এবং অর্থনৈতিক বিষয়াদি দেখভালের জন্য অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ দেবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এ মেয়াদ পুনরায় বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিভাবক নিখোঁজ ব্যক্তি সংক্রান্ত যে কোনো কাজ বা সিদ্ধান্তের জন্য জবাবদিহি হবেন।
নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ৭ বছর পর্যন্ত নিখোঁজ থাকলে তাকে মৃত বলে গণ্য করা যাবে। এ জন্য পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে উচ্চ আদালত ‘সার্টিফিকেট অব প্রিজিউম্ড ডেথ’ প্রদান করবে। মৃত ঘোষণার পর অন্যরা ঐ ব্যক্তির সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। আসছে অক্টোবর মাস থেকে যুক্তরাজ্যে নতুন এ আইন কার্যকর হবে।
জাস্টিস মিনিস্টার লর্ড ফল্ক্স বলেন, নিখোঁজের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এটা সংশ্লিষ্ট পরিবারকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়। কয়েক মাস বা বছরের অধিক সময় নিখোঁজ থাকার ঘটনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মানসিক এবং ব্যক্তিগতভাবে বিপর্যস্ত করে। তার ওপর অনুপস্থিত থাকার ফলে সৃস্ট পরিস্থিতি নিখোঁজ হওয়ার পরিণতিকে আরো ভয়াভহ করে তোলে। এ জন্য নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদ এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে সচল রাখার জন্য নতুন এ আইনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
‘মিসিং পিপল’ নামে একটি চ্যারিটি সরকারের এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছে, এ আইন নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পদ এবং অর্থনৈতিক সুরক্ষার পথকে সুগম করবে।
ইঅ/চৌফে/শ৩৮৮
