বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ দক্ষিণ কোরিয়ায় শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের ফুটবল লড়াইয়ে নামার আগে ভিয়েতনামের কাছে ২-৪ গোলে হারের পরও সন্তুষ্ট।
ক্রুইফ ঢাকায় বাফুফেকে জানিয়েছেন ভিয়েতনামের কাছে হারটা দুর্ভাগ্যজনক। আতিকুর রহমান মিশু খেলতে না পারায় রক্ষণভাগ দুর্বল ছিল বলে জানিয়েছেন ডাচ এই কোচ। ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচটি খেলার কোন পূর্বসূচী ছিল না।
বাংলাদেশের অনুর্ধ্ব২৩ ফুটবল দল গত রবিবার সেখানে পৌছার পর ভিয়েতনাম তাদের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে আগ্রহ দেখায়। বাংলাদেশের কোচও তাতে সম্মতি দেন। ভিয়েতনাম বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। র্যাংকিংয়ে তো উপরে আছেই। তা ছাড়াও ভিয়েতনাম ফুটবল দলের প্রস্তুতিও অনেক বেশি। জাপান, কোরিয়া, ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ গত ১৪ মাসে বিভিন্ন দেশের ক্লাবের বিরুদ্ধে ১৪টি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে ভিয়েতনাম। এর মধ্যে তারা ম্যাচ জিতেছে ১২টি। আর ব্রাজিলের ক্লাবের বিরুদ্ধে ৩-৩, জাপানের ক্লাবের বিরুদ্ধে ২-২, এবং কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় দলের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময় গোলশূণ্য ড্র হওয়ার পর ভিয়েতনাম ট্রাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতেছে।
অপরদিকে বাংলাদেশের যুব ফুটবল দলটি কোরিয়া যাওয়ার আগে দেশে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বাফুফে একাদশ এবং নেপালের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। দুর্বল এই প্রস্তুতির পরও
ভিয়েতনামের সাথে কাল প্রথমার্ধে ০-২ গোলে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশের দলটি। ১৮ মিনিটে ১-০, ২৫ পেনাল্টিতে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ভিয়েতনাম যুব ফুটবল দল। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর কোচ ক্রুইফ তার রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে একজন একজন করে খেলোয়াড়কে মাঠে নামাতে শুরু করেন। পালাক্রমে পাচজন ফুটবলার পরির্বতন করেন তিনি। সিফাতের বদলে তপু বর্মণ, মামুনুল ইসলামের বদলে ফরহাদ, কেষ্ট কুমারের বদলে ষ্ট্রাইকার ওয়াহেদ আহমেদ মাঠে নামেন। ৬৩ মিনিটে বাংলাদেশ তৃতীয় গোল হজম করে ৩-০। ৬৫ মিনিটে জুয়েল রানার বদলে তকলিস আহমেদ মাঠে নামেন।
বাংলাদেশ দল ৭০ মিনিটে গোলের দেখা পায় । বদলী ষ্ট্রাইকার ওয়াহেদ গোল করে ব্যবধান কমান (১-৩)। পাচ মিনিট পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় গোল পায়। বদলী ফুটবলার তকলিস আহমেদ গোলটি করেন (২-৩)। স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশ শিবিরে। ৮৫ মিনিটে ক্রুইফ আরেকটি পরিবর্তন এনে আক্রমনভাগে সোহেল রানার পরিবর্তে সজিবকে মাঠে নামালেও তাতে গোল পায়নি বাংলাদেশ। বরং ৯০ মিনিটে চতুর্থ গোলটি হজম করে বাংলাদেশ দল।
