শিবিরের মেসে তল্লাশি: অস্ত্র-জিহাদি বই উদ্ধার

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১০:৩৭

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির নিয়ন্ত্রিত মেসে তল্লাশি চালিয়ে ককটেল, রামদা, ছুরি, পাইপগান বানানোর সরঞ্জাম এবং শতাধিক জিহাদী বই উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে আলাওল হল সংলগ্ন খতিব মঞ্জিল নামের মেসে এ অভিযান চালানো হয়। এদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে।

চবির শিক্ষক বাসে হামলা এবং শিবিরের মেস থেকে অস্ত্র ও জিহাদী বই উদ্ধারের ঘটনায় বুধবার রাতে হাটহাজারী থানায় দু’টি মামলা হয়েছে। শিক্ষক বাসে হামলার ঘটনায় পরিবহন দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রবিউল আলম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০ জনের নামে একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এসআই আরিফুজ্জামানকে।

অপরদিকে, অস্ত্র ও জিহাদী বই উদ্ধারের ঘটনায় এসআই মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সেক্রেটারি মইনুল সরকার ও চবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব আবু বকর সিদ্দিক উল্লাসহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে ৭০ জনকে আসামি করে অপর মামলাটি করেন। এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এসআই নূরুল হাকিমকে। হাটহাজারী থানা সূত্র জানায়, শিক্ষক বাসে হামলার সাথে জড়িত সন্দেহে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

ক্যাম্পাসে শিবির নিষিদ্ধের দাবি
গতকাল শিক্ষক সমিতির বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়। সমিতির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচে সুচিকিত্সার ব্যবস্থা করা, শিক্ষক বাসে হামলাকারীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা জোরদার করা। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক বেনু কুমার দে সভায় আগামী ১৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি এবং ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষক সমাবেশের ঘোষণা দেন। এছাড়া শিক্ষক বাসে ককটেল হামলার ঘটনা স্মরণে ১০ সেপ্টেম্বরকে কালো দিবস হিসাবে পালনের ঘোষণা দেন। সমাবেশে বক্তারা শিক্ষক বাসে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার দায়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইলের অপসারণ দাবি করেন।  

এদিকে শিক্ষক সমিতির সমাবেশ চলাকালে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামীম উদ্দিন খানকে ছাত্রলীগ কর্মীরা লাঞ্ছিত করে ও তার কক্ষ ভাংচুর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধ্যাপক শামীম ক্যাম্পাসে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দলে’র নেতা হিসাবে পরিচিত।
হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন আহত ৩ শিক্ষক

আহত তিন শিক্ষক গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। তারা হলেন-সাবরিনা আলম, ফাতেমাতুজ জোহরা ও সোনম আক্তার। জানা গেছে, হাসপাতাল ত্যাগ করলেও তারা পুরোপুরি সুস্থ হননি। তাদের শরীরের কয়েকটি স্থানে এখনো স্প্লিন্টার রয়ে গেছে। স্প্লিন্টার অপসারণের জন্য আগামী ১০ দিন পর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হবে।

এদিকে, শিক্ষক বাসে হামলার প্রতিবাদে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ  করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। এ সময় তারা অভিযোগ করেন আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে শিক্ষক বাসে হামলা চালানো হয়েছে।