চাকিং নিয়ে তোলপাড়

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২২:২০
 
কে বলে খেলাধুলা আর রাজনীতি কখনও মিশে একাকার হয় না!
২০০৪ সালে মুত্তিয়া মুরালিধরণের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে এতোটাই তোলপাড় হয়েছিল যে, কথা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড। অবশ্য এর বেশ আগে থেকেই মুরালি আলোচনায় ছিলেন। ১৯৯৫ সালে বক্সিং ডে টেস্টে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কান এই স্পিনারের বোলিং অ্যকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন আম্পায়ার ড্যারেল হেয়ার। আপত্তি ছিল মূলত ‘দুসরা’ ডেলিভারি নিয়েই।
যদিও, মুরালিকে আইসিসি কখনও অবৈধ ডেলিভারির জন্য নিষিদ্ধ করেনি, তারপরও চাপা একটা চোখরাঙানি নিয়েই আজীবন খেলে যেতে হয়েছে টেস্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়া এই স্পিনারকে। তারই সমসাময়িক শোয়েব আখতার কিংবা ব্রেট লিকে নিয়েও ছিল এমন সন্দেহ।
ক্রিকেটে চাকিংয়ের ইতিহাস অবশ্য আরও পুরনো। সর্বপ্রথম ১৮৮০’র দশকে ল্যাঙ্কশায়ারের দুই বোলার জ্যাক ক্রসল্যান্ড ও জর্জ ন্যাশকে সন্দেহের মুখে পড়তে হয়। উনিশ শতকেও ছিলেন বেশ কিছু ‘চাকার’। ১৯৬৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার ইয়ান ম্যাককিফের বলে ‘নো’ ডাকেন আম্পায়ার। তাতে, এতোটাই ক্ষেপে গিয়েছিলেন যে, সেই ম্যাচের পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন এই অস্ট্রেলিয়ান।
তালিকায় সর্বশেষ সংযুক্ত হয়েছেন পাকিস্তানের সাঈদ আজমল। এই খবরটা আগে জানা গেলেও নতুন জানার বিষয় হল, বল করার সময় এই অফস্পিনারের কনুই বাঁকে ৪০ ডিগ্রির বেশি। অস্ট্রেলিয়ার বায়োমেকানিক্সের পরীক্ষার ২৩ পৃষ্টার রিপোর্টে এমনটাই জানা গেছে। শুধু আজমল নন, সামপ্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ হয়েছেন আরও দুজন — শ্রীলঙ্কার সাচিত্র সেনানায়েকে ও নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন। আরও তিনজন আছেন সন্দেহভাজনের তালিকায়। তাদের মধ্যে দুজন হলেন বাংলাদেশের — সোহাগ গাজী ও আল আমিন। আরেকজন হলেন জিম্বাবুয়ের প্রসপার উেসয়া।
গত জুলাই থেকে ছয় জন ক্রিকেটার এমন সন্দেহভাজনের স্বীকার হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে ক্রিকেট বিশ্ব। আইন শিথিল করারও পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। সাবেক ভারতীয় তারকা এক্ষেত্রে বোলারদেরই পক্ষ নিয়েছেন। অপরাধ নয়, বরং টেকনিক্যাল ত্রুটি হিসেবেই দেখতে চান তিনি, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি চাকিংকে কোন অপরাধ হিসেবে দেখতে চাই না। আমার মতে, এটা স্রেফ একধরণের টেকনিক্যাল ত্রুটি। সেটা থাকলে ঠিক করে নিয়ে ফিরে আসো। বল করতে গিয়ে ওভারস্টেপিং করলে, কেউ এটাকে চাতুরি বলে না। বলা হয়, ঠিক জায়গা থেকে বল করতে। আর এখানে বলা হচ্ছে ১৫ ডিগ্রির মধ্যে থেকে বল করতে।’
রাহুল দ্রাবিড় চাকিংয়ের ক্ষেত্রে নমনীয় মনোভাব দেখালেও এর ভিন্নমতও আছে। যেমনটা বললেন আরেক সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার বালভিন্দার সিং সাধু। ১৫ ডিগ্রির বেশি কনুই বাঁকানো যাবে না। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির নিয়মে এমনটাই বলা হয়েছে। কিন্তু, এই নিয়মটা ধরে রাখতে আইসিসিকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, ‘চাকিংয়ের অপরাধটা অনেকটা ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো। এটা সুন্দর খেলা ক্রিকেটকে নষ্ট করছে। আইসিসিকে তাই আরও সতর্ক হতে হবে। যেভাবে, চাকারদের সংখ্যা বাড়ছে তাতে সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। আন্তর্জাতিক হোক আর ঘরোয়া ক্রিকেট হোক সব জায়গাতেই নজরদারী বাড়াতে হবে আইসিসিকে।’