আজমলের ‘অসম্ভব’ ভাবনা!

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২১:০১
 
নিয়ম বলে, বল করার সময় কোন বোলারই ১৫ ডিগ্রির বেশি কনুই বাঁকাতে পারবেন না। সেখানে, অস্ট্রেলিয়ার বায়োমেকানিক্সের দেয়া ২৩ পৃষ্টার রিপোর্ট বলছে সাঈদ আজমলের কনুই বাঁকে ৪০ ডিগ্রির বেশি। এটা বিবেচনায় রেখে আগামী ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখাটা পাকিস্তানের এই অফস্পিনারের জন্য একটু বাড়াবাড়িই বটে।
তবে, প্রায় ‘অসম্ভব’ এমন স্বপ্নের কথাই জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের আগেই ফিরে আসার প্রত্যয়ের কথা জানিয়ে তিনি গত সোমবার লাহোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সিদ্ধান্ত ছিল সাময়িক একটি ধাক্কা।’
আইসিসি কর্তৃক গত সপ্তাহে নিষিদ্ধ হওয়া আজমল বলেন, ‘যা-ই ঘটুক সেটা আমার জন্য ছিল খুবই হতাশার। তবে এখন আদৌ আমি হতাশ নই। বিশ্বকাপে আরো শক্তিশালীভাবে ফেরাই এখন আমার লক্ষ্য।’ এছাড়া ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে (এনসিএ) তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিজের কাজ অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান তিনি।
আজমলের বোলিং অ্যাকশন শোধরাতে সাহায্য করার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দেশটির সাবেক অফ স্পিনার সাকলাইন মুশতাকের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকেই সাকলাইন একাডেমিতে যোগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে আজমল বলেন, ‘তিনি (সাকলাইন) একজন কিংবদন্তী এবং আমার মতো ঠিক একইভাবে দুসরা, অফ স্পিন এবং সব কিছুই করতেন। তিনি অনেক কিছু জানেন এবং যথেষ্ট কোচিং করিয়েছেন। আশা করছি, তার অভিজ্ঞতা থেকে আমি উপকৃত হবো।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন একমাত্র টি টোয়েন্টি, তিন ওয়ানডে এবং দুই টেস্টের সিরিজের জন্য নির্বাচকরা ইতোমধ্যেই আজমলের বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছেন। আজমল বলেন, ‘আমাদের দেশে মেধাবি অনেক ক্রিকেটার রয়েছে। আমি নিশ্চিত যে আমার বিকল্প হিসেবে যাকেই নেয়া হোক, সে আমার চেয়ে ভাল করবে।’
পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা শেষে গত ৯ সেপ্টেম্বর আজমলকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি।
বিশ্বকাপের আগে নিজের বোলিং অ্যাকশন শোধরানোর জন্য পাঁচ মাস সময় পাচ্ছেন আজমল। ইতোপুর্বে ২০০৯ সালেও একবার সন্দেহজনক বোলিংয়ের জন্য আজমলের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা হয়েছিল। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার তিনি ছাড়পত্র পান। তাই এবারো ছাড়পত্র পাওয়ার ব্যপারে আশাবাদী তিনি।
শুধু আজমল নন, সামপ্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ হয়েছেন আরও দুজন — শ্রীলঙ্কার সাচিত্র সেনানায়েকে ও নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন। আরও তিনজন আছেন সন্দেহভাজনের তালিকায়। তাদের মধ্যে দুজন হলেন বাংলাদেশের — সোহাগ গাজী ও আল আমিন। আরেকজন হলেন জিম্বাবুয়ের প্রসপার উেসয়া। বাসস/ওয়েবসাইট