মাঠে খেলা চলাকালীন কোন খেলোয়াড় হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি বিবেচনায় রেফারি তিন মিনিটের জন্য খেলা বন্ধ করে দিতে পারবেন। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার মেডিক্যাল কমিটি আঞ্চলিক ফুটবল কনফেডারেশন এবং বিভিন্ন দলের চিকিত্সক দলের প্রধানদের সাথে আলোচনা শেষে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই প্রস্তাব মেনে নিয়েছে ফিফার নির্বাহী কমিটিও। আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য কয়েকদিনের মধ্যেই মেডিক্যাল কমিটির প্রতিবেদন নির্বাহী কমিটির কাছে পাঠানো হবে।
বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রিস্টোফার ক্র্যামারের চোটের সেই দৃশ্যটা নিশ্চয়ই মনে আছে সবার। হেড করতে গিয়ে আর্জেন্টাইন এক খেলোয়াড়ের সাথে সংঘর্ষের পর মাঠেই শুয়ে পড়েন ক্র্যামার। এরপর যখন ফিজিওর সহায়তায় মাঠের বাইরে গেলেন, তখন তাকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন চেতনাই নেই তার! পরে জানিয়েছেন ঐ দুর্ঘটনার পরের কয়েক ঘণ্টার স্মৃতি তার মাথায়ই নেই।
এরকম আরো দুটি ঘটনা ব্রাজিল বিশ্বকাপেই দেখেছে বিশ্ব। যদিও মাঠে হূদস্পন্দন বন্ধ হয়ে কিংবা স্ট্রোক করে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ার ঘটনা বিরল নয় মোটেই। তবে বলা বাহুল্য সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলোই নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে ফিফাকে।
বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তাই মাঠে বসেই যেন টিম ডক্টররা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন সেজন্য তাত্ক্ষণিক কিছু সময় দেয়ার কথা ভাবছিল ফিফা। সে ভাবনা থেকেই এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে ফিফার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপে ঐ ঘটনাগুলোর মাধ্যমে ফিফা বুঝতে পেরেছে মাঠে টিম ডক্টরদের ভূমিকা নিয়ে আরো ভেবে দেখার অবকাশ আছে। যাতে কিনা প্রতিযোগিতা চলাকালীন কোন ঘটনা ঘটলে সেটা আরো সুষ্ঠুভাবে মোকাবেলা করা যায়।’
মেডিক্যাল কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তিন মিনিটের ঐ বিশেষ ক্ষমতা পাচ্ছেন রেফারি। বিশেষ ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে টিম ডক্টরকেও। ফিফা জানায়, ‘নতুন ঐ প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, যখনই কোন মারাত্মক চোটের ঘটনা ঘটবে তখন রেফারি তিন মিনিটের জন্য খেলা বন্ধ করে দিতে পারবেন। যেই সময়টাতে টিম ডক্টর মাঠেই ঝুঁকির মাত্রা নির্ণয় করতে পারবেন এবং সে(খেলোয়াড়) মাঠে থাকবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেবেন।’
অর্থাত্ এই অবস্থায় টিম ডক্টরের সরাসরি অনুমতি সাপেক্ষেই কেবল ঐ খেলোয়াড় মাঠে থাকতে পারবেন।
ব্রাজিল বিশ্বকাপে চোটাক্রান্ত খেলোয়াড় সংখ্যা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে কম ছিল বলেও জানায় ফিফা। যা কিনা স্পষ্টতই রেফারিদের কৃতিত্ব নির্দেশ করে জানিয়ে ফিফা বলে, ‘২০০২ বিশ্বকাপে ম্যাচ প্রতি চোটের সংখ্যা ছিল ২.৭। আর ব্রাজিলে সেটা ছিল মাত্র ১.৭। সুতরাং আগের আসরগুলোর তুলনায় এটা রেফারিংয়ের ক্ষেত্রে উন্নতিটাই নির্দেশ করে।’ এএফপি
