এশিয়ান গেমসের ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৯:৩৬



এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে ইতিহাস রচনা থেকে আর মাত্র একধাপ দূরে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা দল। চার বছর আগে গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে না হলেও এবার সেই হতাশা কাটিয়ে স্বর্ণ জয় করেই দেশে ফিরতে চান সালমারা। সেই লক্ষ্যে সেমিফাইনালে শ্রীলংকাকে ২৫ রানে হারিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। ফাইনাল নিশ্চিত করার পাশপাশি ইনচনের ইউনহি ক্রিকেট মাঠে নিজেদের আত্মবিশ্বাসকেও বেশ খানিকটা বাড়িয়ে নিয়েছে।

টস জিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক সালমা খাতুন ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ধীর গতির উইকেটে ব্যাটসম্যানরা খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ৯৫ রানের জবাবে শ্রীলংকার ইনিংস ১৮.২ ওভারে ৭০ রানেই গুটিয়ে যায়। বাংলাদেশের এই দুর্দান্ত জয় মাঠে উপস্থিত হয়ে উপভোগ করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল। সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সভাপাতি সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া।
গুয়াংজু এশিয়ান গেমসের ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী পাকিস্তান। এবারও সেই একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। চায়নায় ১০ উইকেটের পরাজয়ের পরে রৌপ্য পদকই যথেষ্ঠ ছিল বাংলাদেশের জন্য । কিন্তু এবার সেই হতাশাকে সঙ্গী করে দেশ ছাড়ার আগেই স্বর্ণ জয়ের দৃঢ় এক লক্ষ্য নিয়েই দক্ষিণ কোরিয়ায় এসেছে সালমা খাতুনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। পাকিস্তানও এই চার বছরে বাংলাদেশের উন্নতিকে বেশ সমীহ করছেই। নাহলে সকালে প্রথম সেমিফাইনালে চায়নার বিপক্ষে ৯ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নেবার পরে যেখানে এ্যাথলেট ভিলেজে ফিরে গিয়ে বিশ্রামে থাকার কথা সেখানে পুরো পাকিস্তান দলকে গ্যালারিতে বসে বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকার ম্যাচটিতে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে দেখা গেছে।
এর আগে কখনই বাংলদেশ টোয়েন্টি২০ ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে হারেনি। বিশেষ করে চলতি বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপে লংকানদের বিপক্ষে ৩ রানের জয়ে পুরো দলই ছিল দারুন আত্মবিশ্বাসী। তারই ধারাবাহিকতায় আজ লংকান ব্যাটসম্যানদের দাঁড়াতেই দেননি বাংলাদেশী বোলাররা। বিশেষ করে ডান হাতি মিডিয়াম পেসার পান্না ঘোষের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। দুই স্পেলে ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৫ উইকেট দখল করে তিনি বাংলাদেশের জয়ে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। টি২০ ম্যাচে একজন বোলারের এই ধরনের স্পেলের পরে অধিনায়কের তার কাছ থেকে আর বেশী কিছু চাওয়ার থাকে না। পান্না আজ সঠিক সময়ে সঠিক কাজটাই করেছেন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে প্রথম ও তৃতীয় বলে দুই উদ্বোধনী ব্যাটার লাসানথি মাদুশানি ও ইয়াসোদা মেন্ডিসকে ফিরিয়ে দিয়ে লংকানদের ইনিংসের ভিত নষ্ট করে দেন। দলীয় ৬ রানে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারানোর পরে শ্রীলংকার ইনিংসকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন চামারি আতাপাত্তু ও অধিনয়ক শশীকলা সিরিওয়ারদেনে। কিন্তু বাংলাদেশী বোলারদের কাছে কোনভাবেই পেরে উঠেনি শ্রীলংকা। পান্না ছাড়াও রুমানা আহমেদ ১১ রানে ২টি ও সালমা ১২ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। ইনিংসের সর্বোচ্চ ১৫ রান এসেছে শশীকলার ব্যাট থেকে।
এর আগে প্রথমে ব্যাটিং থেকে বাংলাদেশ ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শুন্য রানে শাহনাজ পারভীনের উইকেট হারায়। কিন্তু লতা মন্ডল ও ফারজানা হকের তৃতীয় উইকেটে ২৭ ও লতা ও সালমার চতুর্থ উইকেটে ৩৭ রানের জুটিতে বাংলাদেশ ৯৫ রান গড়তে সক্ষম হয়। লতা ৪৩ বলে ১টি বাউন্ডারিসহ সর্বোচ্চ ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। ফারজানা ৩৩ বলে করেছেন ২২ রান।
এই নিয়ে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মত পাঁচ উইকেট শিকার করে দারুণ উচ্ছসিত বাংলাদেশি বোলার পান্না। এর আগে ২০০৭ সালে এসিসি মহিলা ক্রিকেট টুর্নামেন্টে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন পান্না। কিন্তু এবার তার কারণে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে বাংলাদেশ। তাই স্বাভাবিক ভাবেই এবারের পাওয়ার আনন্দটা একটু বেশী। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, সবসময়ই চাই দেশের হয়ে খেলার জন্য। আজকে সেটা করতে পেরেছি। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। ফাইনালে জিতেই সেটা পূর্ণ করতে চাই। দেশকে কিছু দিতে চাই। আজকের মত আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারলে ফাইনাওে সাফল্য সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। পাকিস্তানী ব্যাটারদের মান অনেক ভাল মেনে নিয়েই পান্না বলেছেন তারা অবশ্য শক্তিশালী। কিন্তু আমরা যদিও নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারি তবে সবকিছুই সম্ভব। এই উইকেটে ১০০ রানই জয়ের জন্য যথেষ্ঠ বলে তিনি মনে করেন। খবর বাসসের।