তোবা শ্রমিকদের সোমবার বিজিএমইএ ভবন ঘেরাওয়ের হুমকি

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৯:২৭
 
 
 
 
আগামী রবিবারের মধ্যে তোবা গ্রুপের ৫টি কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-বোনাস দেয়া না হলে সোমবার সকালে রাজধানীর বিজিএমইএ ভবন ঘেরাওয়ের হুমকি দিয়েছে তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। সেই সঙ্গে বন্ধ থাকা ৫টি কারখানা খুলে দেয়ারও দাবি জানানো হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক মানববন্ধনে এ ঘোষণা দেন শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মোশরেফা মিশু। এ সময় তোবা গ্রুপের বেশ কিছু শ্রমিকও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন, দুই ঈদের বোনাস দেয়ার দাবি জানানো হয়।
মোশরেফা মিশু বলেন, শ্রম মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন— ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সকল গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হবে। কিন্তু মালিকরা এখনো শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করেনি। পরে শ্রমমন্ত্রী আবার ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেতন এবং ২ অক্টোবরের মধ্যে বোনাস দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। ঈদের বাকি মাত্র ৯ দিন। কিন্তু শ্রমিকদের বেতন বোনাসের বিষয়ে এখনো সরকার এবং মালিক পক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।
তিনি বলেন,  শ্রমিকরা না খেয়ে থাকবে আর মালিকরা ঈদ করবে তা দেশে হতে দেওয়া হবে না। তাই আমাদের দাবি পূরণ না হলে ঘরে বসে না থেকে কঠোর আন্দোলনে যেতে হবে। শ্রমিকরা ঈদ করতে না পারলে মালিকরাও ঈদ করতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সেই সঙ্গে তোবার মালিক দেলোয়ার হোসেনের জামিন বাতিলেরও দাবি জানান।
এ সময় শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঈদের পর কারখানা চালু না করে লে-অফ করলে শ্রমিকদের ৪ মাসের বেতন দিতে হবে। আর শ্রমিকরা যত বছর কাজ করেছে প্রতি বছরের জন্য শ্রম আইন অনুযায়ী পাওনা দিতে হবে। তোবার মালিক দেলোয়ারের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয় ।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার, তোফাজ্জল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, ও সুমন মল্লিক প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, তোবার প্রায় ১৫ শ শ্রমিক বকেয়া বেতন না পেয়ে গত রোজার ঈদের আগের দিন থেকে বাড্ডায় তোবার কারখানা ভবনে অনশন করেন। ১১ দিন অনশনের পর নানা নাটকীয়তা শেষে দুই ধাপে শ্রমিকদের জুলাই পর্যন্ত তিন মাসের বেতন দেয়া হয়। এর পর কারখানা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে কারখানা বন্ধকে অবৈধ আখ্যা দেয় সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। অন্য দিকে, কারখানা বন্ধের নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শ্রম আদালতে মামলাও করা হয়েছে। এরপর থেকে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেন দাবি করছেন, তার কাছে টাকা নেই। তাজরীন গার্মেন্টসের বিমার টাকা পেলে তিনি তোবার শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করবেন বলেও জানান।