আসন্ন কোরবানির ঈদে ব্যবসায়ীরা যাতে পশুর চামড়া নির্বিঘ্নে কিনতে পারেন, সে জন্য ৫৪০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিভিন্ন ব্যাংক। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ব চার বাণিজ্যিক ব্যাংক দিচ্ছে ৫৩০ কোটি টাকা। এ ছাড়া, বেসরকারি খাতের কয়েকটি ব্যাংক ১০ কোটি টাকা দিচ্ছে। গতবছর সব ব্যাংক মিলে এ খাতে ৪৩৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের চামড়ার গুণগত মান ভালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে চাহিদা রয়েছে। এ কারণে কোরবানির ঈদের আগে ট্যানারি মালিকদের কাছে প্রচুর অগ্রিম ক্রয়াদেশ আসে। বছরজুড়ে দেশে যত চামড়া পাওয়া যায় তার ৬০ থেকে ৬৫ ভাগই চামড়া পাওয়া যায় কোরবানির সময়। এ জন্য এ সময় চামড়া কিনতে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয়।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে ঋণ দিয়েছেন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাদেরকেই আবার ঋণ দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে তিনি কোনো ব্যাংকের খেলাপি কিনা, তা যাচাইর জন্য ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) রিপোর্ট সংগ্রহের পাশাপাশি ইতিপূর্বে ঋণ পরিশোধের রেকর্ড ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা যাচাই করা হয়। ব্যাংকগুলো পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে এরই মধ্যে কাকে কতো টাকা ঋণ দেয়া হবে তা ঠিক করেছে। তবে নতুন করে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানের আবেদন আসলে শেষ সময়ে তাদের ঋণ দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানার চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে বরাবরের মতো এবারও চামড়া কিনতে সবচেয়ে বেশি ঋণ দিচ্ছে জনতা ব্যাংক। মঙ্গলবার পর্যন্ত আসা আবেদনের মধ্যে ২২২ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তারা ২৫০ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার প্রস্তুতি রেখেছে। গত বছর ব্যাংক চামড়া কিনতে ২০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল। এরপর ১৪০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে সোনালী ব্যাংক। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে একেবারে নতুন করে ৫৮ কোটি টাকা দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, আগে নেয়া ঋণের ৮২ কোটি টাকা ঋণের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া, অগ্রণী ব্যাংক এবার ৯০ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। গত বছর তারা চামড়া কিনতে দিয়েছিল ৯০ কোটি টাকা। আর রূপালী ব্যাংক প্রাথমিকভাবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতবছর ব্যাংকটির ঋণ দিয়েছিলো ৪৫ কোটি টাকা। তবে এই দুই ব্যাংক নতুন করে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানের আবেদন পেলে ঋণ বাড়াবে বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া, বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল, সিটিসহ কয়েকটি ব্যাংক মিলে চামড়া কিনতে এবারে ১০ কোটি টাকার মতো ঋণ দেবে বলে জানা গেছে।
