মন্দা পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পুনরূদ্ধার প্রক্রিয়া ‘দুর্বল এবং অসম’ বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এর ফলে পূর্বের করা পূর্বাভাস ও কমিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি। গত জুলাই মাসের হিসেবে চলতি অর্থবছরে বিশ্বের গড় প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা ছিলো ৩.৪। কিন্তু সম্প্রতি আইএমএফ এর সর্বশেষ পূর্বাভাসে এ হার ৩.৩ এ নামিয়ে আনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী অর্থবছরেও পূর্বাভাসের এ হার ৪ শতাংশ থেকে ৩.৮ এ নামিয়ে আনা হয়।
আইএমএফ বলছে, ইউরোজোন, রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য ও জাপানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিশ্ব প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস পরিবর্তন করা হয়নি। খবর বিবিসির।
আইএমএফ এর প্রধান অর্থনীতিবিদ অলিভার ব্লানচার্ড এ বিষয়ে বলেন, প্রবৃদ্ধির এ সংখ্যায় সব দেশের অর্থনীতির চিত্র পাওয়া যাবে না। কিছু দেশ ইতিমধ্যেই মন্দার রেশ কাটিয়ে উঠেছে বা প্রায় কাটিয়ে উঠছে। কিন্তু এখনও অনেক দেশ মন্দার বিরূদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্টের প্রবৃদ্ধির হার আগের পূর্বাভাস অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। চলতি অর্থবছরের জন্য ৩ দশমিক ২ এবং আগামী বছরের জন্য ২ দশমিক ৭ শতাংশ হারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি আশা করা হয়েছে।
অন্যদিকে জাপান তাদের অর্থনৈতিক পুনরূদ্ধার প্রক্রিয়ায় পিছিয়ে পড়ছে। গত এপ্রিলে জাপানের বিক্রয় করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ করায় এ ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছে আইএমএফ। এ বছর জাপানের প্রবৃদ্ধি হবে মাত্র শুণ্য দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান সংকটের ফলে রাশিয়ার অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়বে।
এদিকে আর্জেন্টিনার বন্ড মার্কেট নিয়ে টানাপোড়েনের পর সরকারি বন্ড তহবিলের পুর্নগঠন করতে বলেছে আইএমএফ। গত ১৩ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বারের মতো খেলাপি হয়েছে আর্জেন্টিনা। তথাকথিত ‘ভালচার ফান্ডে’ বিনিয়োগকারীরা একসাথে ১৩০ কোটি ডলার ফেরত চাইলে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলাও হয়েছে। আইএমএফ এর সংস্কারের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে অনেকেই। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ থাকলেও বর্তমানে এ দুই দেশের ব্যাংক সুদের হার অত্যন্ত কম রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
