সোহাগের লক্ষ্য বিশ্বকাপ

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৪, ১৮:৩২
 
 
সাকিব আল হাসান আর মুমিনুল হক পাশাপাশি বসে নানা বিষয় নিয়ে খুনসুটি করছিলেন। হঠাত্ মুমিনুল মনে করিয়ে দিলেন, ‘আগামীকাল থেকে ফিটনেস টেস্ট শুরু।’
এবার ফিটনেস টেস্ট, বিলিফ টেস্ট নিয়ে গল্প-গুজব শুরু হল।
দূরে দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সাথে কথা বলতে বলতেই মুমিনুল-সাকিবদের গল্প শুনছিলেন সোহাগ গাজী। মনটা নিশ্চয়ই আনচান করছিল—আহা, সবকিছু ঠিক থাকলে তিনিও তো আজ ফিটনেস টেস্টে অংশ নিতেন।
সবকিছু ঠিক নেই; কার্যত সোহাগের এখন কিছুই ঠিক নেই। ঠিক নেই বলেই অনুমোদিত বোলিং অ্যাকশনের কারণে এখন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে আছেন এই স্পিনিং অলরাউন্ডার। তবে এই অবস্থায় খুব বেশি দিন যে থাকতে চান না, সেটা বারবারই বলছেন। গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে বেরোনোর পথে সংবাদ মাধ্যমকে আবারও নিজের আত্মবিশ্বাসের কথাটা শুনিয়ে গেলেন সোহাগ। সেই সঙ্গে বলে গেলেন—তার লক্ষ্য বিশ্বকাপের আগেই নিজের বোলিং অ্যাকশন ফিরে খেলায় ফেরা।
বিসিবিও সোহাগের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াটা দ্রুতই শুরু করে তাকে মাঠে ফেরার পথটা দেখিয়ে দিতে চায়। সে জন্য সোহাগের পাশাপাশি গতকালই ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান কথা বলেছেন রাজ্জাকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কাজ করা স্পিন বিশেষজ্ঞ কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে। সালাউদ্দিন সোহাগের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহই প্রকাশ করেছেন। তবে যতদূর জানা গেছে মালয়েশিয়ায় চাকরিরত সালাউদ্দিনের পক্ষে বাংলাদেশে এসে সময় দেয়া সম্ভব না। তাই তিনি প্রস্তাব করেছেন, সোহাগকেই মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য। এই চিন্তাটাও বাতিল করেনি বিসিবি।
আকরাম খান বলছিলেন, ‘আমরা সোহাগকে সর্বোচ্চ ও ওর পছন্দমতো সমর্থন দিতে চাই। রাজ্জাকের সঙ্গে আমরা আলাপ করেছি। সালাউদ্দিন তার সঙ্গে কাজ করেছে। আমরা ওর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবো। অন্যান্য সম্ভাবনাও আলোচনা করবো। আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবো।’
সিদ্ধান্ত বিসিবি যেদিনই নিক, যাই নিক; সেটার সঙ্গে আগে থেকেই সহমত পোষণ করেছেন সোহাগ। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সালাউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে ভরসাটা রাখছেন বিসিবির ওপরই, ‘এটা আমার চেয়ে বিসিবি ভাল বোঝে। তারাই ভাল বলতে পারবে কাকে আনলে ভাল হবে।  বিসিবির ওপরই সিদ্ধান্ত তারা কি করে।’
সোহাগ শুধু চান দ্রুত ফিরতে। বারবার সে ব্যাপারে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথাটাও শোনালেন, ‘আমি যত দ্রুত এবং যত বেশি কষ্ট করব তত তাড়াতাড়ি ক্যামব্যাক করতে পারব। আমার মনে হয় না খুব বেশি সময় লাগবে; তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে পারব। তবে আমার বিশ্বাস সময়টা খুব কম লাগবে।’
সোহাগের এই আত্মবিশ্বাসকে মাঝে মাঝে অতিআত্মবিশ্বাস বলে মনে হয়। সোহাগ নিজেই বলছেন, তিনি ‘ওভার কনফিডেন্ট’ নন। সেটা যে ক্ষতিকর, তাও বোঝেন সোহাগ, ‘আত্মবিশ্বাস না থাকলে ক্রিকেট খেলা সম্ভব নয়। আত্মবিশ্বাস আমাদের সব সময় ছিল এখনও আছে। আমার কাছে মনে হয় না যে খুব লম্বা সময় লাগবে। খুব তাড়াতাড়িই আমি খেলতে পারব। তবে আমি অতি আত্মবিশ্বাসী নই। সেটা হলে হিতে বিপরীত হবে। আমি পরিণত মানুষ। আমি বুঝি, কতোটুকু আত্মবিশ্বাস থাকা দরকার।’
আত্মবিশ্বাস বা ইতিবাচকতার অভাব নেই সোহাগের। তবে এর মধ্যেও একটা আফসোস আছে। কেউ কখনো তাকে বলেনি, তার বোলিং অ্যাকশনে সমস্যা আছে, ‘অনেক তো স্পিন ক্যাম্প করেছি।  কেউ ওইরকম ভাবে কিছু বলে নাই। আমার পায়ে একটু সমস্যা ছিল।  সেটাই সবাই বলেছে।’
এখন সে সব পিছনের কথা। বাস্তবতা হল সোহাগকে নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। কয়েক মাস আগেও যিনি ছিলেন দেশের সেরা স্পিনার, তিনি এখন বিশ্বকাপেও নিশ্চিত নন। তাকে এখন মাঠের বাইরে বসে খেলা দেখতে হবে। তবে সোহাগ হাল ছাড়ছেন না। তিনি এখনও লক্ষ্যটা বিশ্বকাপই করে রেখেছেন, ‘অবশ্যই বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছা আছে। যত তাড়াতাড়ি পারি পরীক্ষা দিয়ে ইতিবাচক রেজাল্ট নিয়ে ফিরে আসতে চাই। আমার মনে হয় না কোন সমস্যা হবে।’