নিউইর্য়কে জাতিসংঘের ৬৯তম সাধারণ অধিবেশনের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তারা বলেছেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য মৌলিক মানবাধিকারের ভিত্তিতে কর্মসুচি বিন্যাস করতে হবে। উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য মানবাধিকার ও মানবমর্যাদা অর্ন্তভুক্ত করতে হবে। আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যে প্রকট বৈষম্য রয়েছে তা কমিয়ে আনতে হবে।
বিয়ন্ড ২০১৫ আয়োজিত এই বৈঠকে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের কূটনীতিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মীসহ ১৫০ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। বাংলাদেশ এতে কো হোস্টের দায়িত্ব পালন করেছে। নিউইর্য়কের পার্ক এভিনিউতে ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কো হোস্ট হিসাবে বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীাতবিদ ড. খলীকুজ্জামান আহমদ তার স্বাগত ভাষণে বলেন, শুধু দেশের ভেতরে নয়, আর্ন্তজাতিকভাবেও যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন-দিন যে খারাপের দিকে যাচ্ছে, তা দূর করতে নিজ নিজ দায়িত্ব এবং সক্ষমতা-ভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গ্রিনহাউস গ্যাস কমিয়ে তা নিযন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি অভিঘাত মোকাবিলায় তহবিল গঠনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর কথা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আনতে হবে।
বৈঠকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ওপেন ওযার্কিং গ্রুপের গৃহীত দারিদ্য্র ও ক্ষুধা নির্মূলের ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়। বৈঠকের মডারেটর ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক কমিশনের নির্বাহী সচিব মিজ এরিসিয়া বর্সেনা বলেন, আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থায় প্রকট বৈষম্য রয়েছে। এই বৈষম্য কমিয়ে না আনলে বাস্তবে কোনো কাজ হবে না।
২০১৫ উত্তর উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নির্মূলের লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ মৌলিক মানবিধকার উন্নয়নের ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
আলোচক হিসাবে আরো অংশ নেন জািতসংঘ মহাসচিবের উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মিজ আমিনা মোহাম্মদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিয়ন্ড ২০১৫-এর নির্বহীি কমিটির সহ সভাপতি অ্যান্ড্রু গ্রিফিথস।
