১১০৬ কারখানায় ৮০ হাজার ত্রুটি: অ্যাকর্ড

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৪, ১২:৪৯
ইউরোপভিত্তিক ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত জোট অ্যাকর্ড এ পর্যন্ত ১ হাজার ১০৬টি গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শন করেছে। সব কারখানায়ই কম-বেশি ত্রুটি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছোট-বড় মিলিয়ে ত্রুটি পেয়েছে অন্তত ৮০ হাজার। অ্যাকর্ডের ১৫ শতাধিক কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— অন্য দিকে, আমেরিকা-ভিত্তিক ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স প্রায় ৫৮৭টি কারখানা পরিদর্শনেও ছোট-বড় ত্রুটি পাওয়া গেছে। অন্য দিকে, বড় ধরনের নিরাপত্তা-ঝুঁকি বিবেচনায় এরই মধ্যে অ্যাকর্ডের পরিদর্শনে ২৪টি এবং অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনে ১৭টি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
অ্যাকর্ডের প্রধান নিরাপত্তা পরিদর্শন ব্র্যাড লোয়েন বলেন, পরিদর্শন করা সব কারখানায়ই ছোট বড় নিরাপত্তা-ঝুঁকি পাওয়া গেছে। 
অবশ্য ৮০ হাজার ত্রুটি সম্পর্কিত অ্যাকর্ডের এ পরিসংখ্যানের সঙ্গে একমত নন বিজিএমইএর সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘কারখানা পরিদর্শন করতে গিয়ে তাদের পক্ষ থেকে কিছু পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ত্রুটির কথা বলা হয়েছিল। এ সব ত্রুটি কারখানা বন্ধ হওয়ার মতো নয়। পরবর্তীতে কারখানা কর্তৃপক্ষ অনেক ত্রুটি সংশোধনও করেছে। কিন্তু এগুলো বড় করে দেখার কিছু নেই।’
সাভারের রানা প্লাজা ধস এবং এর আগে তাজরীন গার্মেন্টসে আগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৩০০ শ্রমিক নিহত হন। এর পর আন্তর্জাতিক আঙ্গনে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। সমালোচনার মুখে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো কারখানার অগ্নি এবং ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয়। ইউরোপ-ভিত্তিক ১৯০টি ব্র্যান্ডের সমন্বয়ে গঠন করা হয় অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ। অন্য দিকে, আমেরিকা-ভিত্তিক ২৬টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠন করা হয় অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি। এ দুটি পরিদর্শন দলের মাধ্যমে প্রায় ২৩ শ কারখানা পরিদর্শন করার কথা। এর মধ্যে অ্যালায়েন্স তাদের পরিদর্শন ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে। পরিদর্শন শেষে ত্রুটিপূর্ণ কারখানার সংস্কারে দীর্ঘমেয়াদে ঋণসহ অন্যান্য সহায়তা করতে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স চুক্তিবদ্ধ। অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ত্রুটি পাওয়া কারখানা সংস্কারে গড়ে ২ কোটি টাকা করে প্রয়োজন হবে।