নিজের মুখেই বললেন, বাংলাদেশ তার অতিপরিচিত এক জায়গা। সেই অতিপরিচিত দেশে এবার একটু অপরিচিত চেহারায় সফরে এসেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। এবার ক্রিকেটার হিসেবে নয় ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত ও লিজেন্ড্স অব রূপগঞ্জ ক্লাবের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার একদিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তী।
সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর পর পরই হেলিকপ্টারে টেন্ডুলকার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছান। ১০ জন ঢুলী ঢোল বাজিয়ে ভারতীয় কিংবদন্তী ক্রিকেটারকে বরণ করে নেন। তারাবো পৌরসভার মেয়র শফিকুল ইসলাম চৌধুরী ও নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ঐশী ও মাঈশা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। স্থানীয় নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী বেলুন উড়িয়ে স্বাগত জানায়। শচীন টেন্ডুলকার অনুষ্ঠান স্থলের অদূরে একটি লিচুগাছের চারা রোপণ করেন। এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্যানিটেশন বিষয়ক সচেতনতামূলক কাজে অংশ নেন। বিদ্যালয়ের ৩ জন শিক্ষার্থীকে হাত ধোয়ার কৌশল শিখিয়ে দেন, তারা বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীকে সে কৌশল শিখিয়ে দিবে।
পরে ক্রিকেট খেলার প্রস্তুতি নেয়া বাংলাদেশের পক্ষে তারাবো পৌরসভার মেয়র একাদশ ও ভারতের পক্ষে শচীন একাদশ ক্রিকেটদলের ক্ষুদে খেলোয়ারদের সঙ্গে পরিচিত হন। এরপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য পর্ব শেষে টেন্ডুলকার ঢাকায় ফিরে আসেন।
ঢাকায় পাঁচ তারকা এক হোটেলে বিকালের লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ দলের লোগো ও জার্সি উদ্বোধন করেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দল ‘গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স’ কার্যত এই অনুষ্ঠানের ভিতর দিয়েই ‘লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ’ নামে আত্মপ্রকাশ করলো। দলের হবু অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, আইসিসির সভাপতি আহম মোস্তফা কামাল, ক্রীড়ামন্ত্রী বীরেন শিকদার ও দলের কর্ণধার বাদলকে সঙ্গে নিয়ে ঝাঁ চকচকে লোগো ও নতুন জার্সি উদ্বোধন করলেন টেন্ডুলকার। পাশাপাশি তারই উন্মোচন করা জার্সি পরে দলের খেলোয়াড়রা সবাই মঞ্চে এসে আকর্ষণও বাড়িয়ে দিলেন।
একটু বিলম্বে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, তথা দলটির মালিক বাদলের ক্রিকেটযাত্রার ওপরে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হল। এরপর শচীনের জীবনের ওপর একটি ছোট তথ্যচিত্র—যেখানে কিংবদন্তী ব্রায়ান লারা, ভিভ রিচার্ডসনদের কথাও দেখানো হল। এরপরের আকর্ষণ ছিল লেজার শো। লেজারের মাধ্যমে শচীনের ক্রিকেট রেকর্ড ও জীবন তুলে ধরা হল। লোগো ও জার্সি উদ্বোধনের পর টেন্ডুলকারকে উপহার দেয়া হল নানারকম স্যুভেনির। আর এই ব্যাটিং কিংবদন্তীর হাতের ছাপও রাখা হল। তারপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখলেন আইসিসি সভাপতি মোস্তফা কামাল। তিনি শচীনকে দেখে অনুপ্রাণিত হতে বললেন সবাইকে। আর সবশেষ আকর্ষণ ছিল টেন্ডুলকারের নিজের কথা। বাংলাদেশের ক্রিকেটের অগ্রযাত্রার জন্য প্রার্থনা করলেন কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান। আর সেই অগ্রযাত্রায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ দল শরিক হবে বলেই আশা করেন তিনিঃ ‘আমি সবসময় আশাকরি, বাংলাদেশের ক্রিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠুক। সেটা করার জন্য এই সাকিব-তামিমরা যোগ্য খেলোয়াড়। আমি আশাকরি, আমার বন্ধু লুত্ফর রহমান বাদলের এই ক্লাব বাংলাদেশের ক্রিকেট অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখবে। এই ক্লাব আরও সাকিব-তামিম তৈরি করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।’
